খালেদা জিয়ার মুক্তির সিদ্ধান্ত মঙ্গলবার


রুদ্রবাংলা প্রকাশের সময় : মার্চ ১৮, ২০২৪, ১৮:৪৭ /
খালেদা জিয়ার মুক্তির সিদ্ধান্ত মঙ্গলবার

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দণ্ড স্থগিত করে স্থায়ী মুক্তি দেওয়ার জন্য তার পরিবারের করা আবেদনের বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত পেতে আরও এক দিন অপেক্ষা করতে হবে। মঙ্গলবার (১৯ মার্চ) এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

সোমবার দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘এবারের আবেদনেও তারা আগের মতোই স্থায়ী মুক্তি চেয়েছেন এবং বিদেশ যাওয়ার জন্য অনুমতি চেয়েছেন। ফাইলটা আমাকে আজকেই হস্তান্তর করা হয়েছে। আমাকে এটি বিবেচনা করতে হবে, পড়তে হবে, দেখতে হবে। ফাইলটা দ্রুত নিষ্পত্তি করা হবে। আগামীকালের (মঙ্গলবার) মধ্যে হয়ে যাবে।’

২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় খালেদা জিয়ার পাঁচ বছরের সাজা হয়। সেদিন থেকে কারাবন্দি হন তিনি। এরপর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার আরও সাত বছরের সাজা হয়। দুটি দুর্নীতির মামলায় কারাদণ্ড পাওয়া খালেদা জিয়া শর্তসাপেক্ষে মুক্তি পান। তার মুক্তির দুই শর্তে রয়েছে, তিনি বাসায় থেকে চিকিৎসা নেবেন এবং বিদেশে যেতে পারবেন না।

দেশে করোনাভাইরাস মহামারির শুরুর দিকে ২০২০ সালের মার্চে নির্বাহী আদেশে খালেদা জিয়ার দণ্ড ছয় মাসের জন্য স্থগিত করা হয়। এরপর থেকে তিনি গুলশানের বাড়িতে রয়েছেন। তখন থেকে প্রতি ছয় মাস পরপর সরকার তার সাজা স্থগিতের মেয়াদ বাড়াচ্ছে।

শর্তে মুক্তির এবারের মেয়াদ শেষে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার স্থায়ী মুক্তির আবেদন জানিয়েছে তার পরিবার। স্থায়ী মুক্তির পর চিকিৎসার জন্য তাকে বিদেশ নিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতি চাওয়া হয়েছে। এ-সংক্রান্ত একটি আবেদন বুধবার (৬ মার্চ) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছে বিএনপি চেয়ারপারসনের পরিবার। খালেদা জিয়ার ছোট ভাই শামীম এস্কান্দরের পক্ষে আবেদনপত্রটি পৌঁছে দেন বিএনপি চেয়ারপারসনের একান্ত সচিব এবিএম সাত্তার।

খালেদা জিয়াকে বিদেশে নিয়ে চিকিৎসার জন্য আগেও আবেদন করেছিল তার পরিবার। সরকারের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে জানানো হয়, ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১-এর উপধারা-১-এর ক্ষমতাবলে খালেদা জিয়াকে দুটি শর্তে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারায় কোনো দরখাস্ত যদি একবার নিষ্পত্তি করা হয়, সেই নিষ্পত্তি করা দরখাস্ত পুনর্বিবেচনা করার অবকাশ আইনে থাকে না।

এবারের আবেদনের বিষয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক আরও বলেন, ‘বহুবার আমি আইনের ব্যাখ্যা দিয়ে বলেছি– ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারা অনুযায়ী যেই শর্তে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে, এর বাইরে আইনিভাবে আমাদের আর কিছু করার নেই। তারপরও দেখছি– প্রথম যে চিঠি লেখা হয়েছিল, সেই আকারে একইভাবে আবার আবেদন করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়া ‍কিন্তু দুটি শর্তে (বিদেশে যেতে পারবে না ও ঢাকায় থেকে চিকিৎসা) মুক্ত। চলাফেরায় তার কিন্তু কোনো অনুমতি নিতে হয় না। তার মুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর আইনি সুযোগ আছে। কিন্তু অন্য কিছু করার আইনি সুযোগ নেই।’