সুন্দরবনে চরপাটা জালে মাছ ধরার অনুমতি দেয়ার দাবিতে জেলেদের মানববন্ধন


রুদ্রবাংলা প্রকাশের সময় : ফেব্রুয়ারী ২৮, ২০২৪, ১৬:৩৬ /
সুন্দরবনে চরপাটা জালে মাছ ধরার অনুমতি দেয়ার দাবিতে জেলেদের মানববন্ধন

মামুন,কয়রা, (খুলনা) প্রতিনিধিঃ

সুন্দরবনে চরপাটা জাল নিষিদ্ধ করা-সংক্রান্ত বনবিভাগের নির্দেশনা বাতিলের দাবি জানিয়েছে সুন্দরবনের উপর নির্ভরশীল জেলেরা। বুধবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার সুন্দরবনের কাশিয়াবাদ ফরেস্ট স্টেশনের সামনে মানববন্ধন করেছেন বনজীবী জেলে সম্প্রদায়ের কয়েকশ নারী-পুরুষ। খুলনার করারা উপজেলার সর্বস্তরের জেলে বাওয়ালীরা এই কর্মসূচির আয়োজন করে।

মানববন্ধনে কর্মসূচিতে জেলে বাওয়ালিদের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে বক্তব্য দেন কয়রা সদর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান সরদার লুৎফর রহমান, সুন্দরবন সংলগ্ন উত্তর বেদকাশী ইউনিয়নের ইউপি সদস্য রেজাউল করিম, মহারাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য আবু সাইদ মোল্যা, ইউপি সদস্য মুর্শিদা খাতুন, মৎস্য ব্যবসায়ী শেখ নুরুল হুদা, খোদা বক্স গাইন, সুন্দরবনের জেলে মোস্তফা সানা, মোল্যা আক্তারুল ইসলাম প্রমুখ।

মানববন্ধন সুন্দরবনের জেলে মোল্যা আক্তারুল ইসলাম বলেন, সুন্দরবনে ঘন ফাঁসের জাল নিষিদ্ধ। আমরা অবৈধ জাল ব্যবহার না করে বড়ো ফাঁসের চরপাটা জালে মাছ ধরে সংসার চালাই। তবে গত এক সপ্তাহ ধরে বনবিভাগ চরপাটা জালে মাছ ধরতে দিচ্ছে না। চরপাটা জাল বন্ধ করায় জেলেরা এখন বনে যাচ্ছে না, এখন বনে যাচ্ছে বিষ দস্যুরা। জেলেরা বনে থাকলে অপরাধীরা সুযোগ পায়না। তাই চরপাটা জালে মাছ ধরার অনুমতি দিয়ে গরিব জেলেদের বনে যাওয়ার সুযোগ দিন।

সুন্দরবনের জেলে মোস্তফা সানা বলেন, আইন হলে সকলের জন্য হোক। এখন শুধু খুলনা ও সাতক্ষীরা জেলার আওতায় থাকা সুন্দরবনের জেলেদের জন্য চরপাটা বন্ধ হয়েছে। বাকিদের জন্য হয়নি। অবিলম্বে এ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবী জানাই।

সুন্দরবন কাশিয়াবাদ ফরেস্ট স্টেশন কর্মকর্তা (এসও) নির্মল কুমার বলেন, এক বছর আগে মৎস্য অধিদপ্তর থেকে জেলেদের চরপাটা জাল ব্যবহারের উপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। এ নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে অনেক জেলে গোপনে জাল দিয়ে মাছ শিকার করে আসছিলেন। গত ২১ ফেব্রুয়ারি ঊর্ধ্বতন বন কর্মকর্তাদের নির্দেশে তাদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করা হয়েছে।

খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক মিহির কুমার দো বলেন, পশ্চিম বন বিভাগের কর্মকর্তা চরপাটা জাল বন্ধে একটি নির্দেশনা দিয়েছেন এমনটি শুনেছি। কিন্তু আমাদের বিদ্যমান ম্যানেজমেন্ট পরিকল্পনায় এ ধরনের চরপাটা জালের বিষয়ে কোন বিধি-নিষেধ নেই। আমাদের ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনায় নিষিদ্ধ জলের তালিকায়ও চরপাড়া জালের উল্লেখ নেই। পশ্চিম বন বিভাগের কর্মকর্তা হয়তো সুন্দরবনের ভালোর জন্যই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।