শিক্ষা- গণতন্ত্র- মনুষ্যত্ব রক্ষার সংগ্রামের ৪ দশকে ১-৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ সংগঠনের একাদশ কর্মী সদস্য সম্মেলন উপলক্ষে ছাত্র সমাবেশ ও মিছিল


রুদ্রবাংলা প্রকাশের সময় : ফেব্রুয়ারী ১, ২০২৪, ১৯:০৮ /
শিক্ষা- গণতন্ত্র- মনুষ্যত্ব রক্ষার সংগ্রামের ৪ দশকে ১-৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ সংগঠনের একাদশ কর্মী সদস্য সম্মেলন উপলক্ষে ছাত্র সমাবেশ ও মিছিল

শিক্ষা- গণতন্ত্র- মনুষ্যত্ব রক্ষার সংগ্রামের ৪ দশকে ১-৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ সংগঠনের একাদশ কর্মী সদস্য সম্মেলন উপলক্ষে ছাত্র সমাবেশ ও মিছিল আজ বেলা ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাব চত্বরে অনুষ্ঠিত হয়।

সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি মুক্তা বাড়ৈ এর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক রায়হান উদ্দিনের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তৃতা করেন কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি সুস্মিতা মরিয়ম, দপ্তর সম্পাদক অনিক কুমার দাস,অর্থ সম্পাদক সুলতানা আক্তার,প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হারুন অর রশীদ।

সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, স্বাধীনতার ৫৩ বছর পরেও রাষ্ট্র শিক্ষার দায়িত্ব নেয়নি। বেসরকারি ও বাণিজ্যিক ধারাই বর্তমানে শিক্ষার প্রধান ধারা। ‘টাকা যার শিক্ষা তার’ এই নীতিতেই চলছে শিক্ষাব্যবস্থা। সংবিধানের ১৭নং অনুচ্ছেদে একই পদ্ধতির শিক্ষার কথা বলা হলেও চলছে সাধারণ, ইংরেজি মাধ্যম, কারিগরি, ক্যাডেট, মাদ্রাসা ইত্যাদি বিভিন্ন ধারার শিক্ষা। সর্বজনীন ও বাধ্যতামূলক প্রাথমিক স্তরও সকল শিশু শেষ করতে পারে না। শিক্ষায় বাণিজ্যিকীকরণ-বেসরকারিকরণ নীতির ফলে উচ্চ শিক্ষায় ব্যয় বৃদ্ধি ঘটছে তীব্র আকারে। জনগণকে জিম্মি করে চলছে শিক্ষার রমরমা ব্যবসা। ইউনেস্কো শিক্ষাখাতে জিডিপির ৬ ভাগ বরাদ্দের কথা বললেও এ বছর আমাদের বরাদ্দ মাত্র ১.৭৬ শতাংশ, যেটি গতবারের চেয়ে ০৭ শতাংশ কম এবং দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বনিম্ন। ক্যাম্পাসগুলিতে শাসক দলের ছাত্র সংগঠনের দ্বারা গণরুম-গেস্টরুম নির্যাতন এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ ও শিক্ষার গণতান্ত্রিক পরিবেশ ধ্বংস করা হয়েছে।সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট শিক্ষার বেসরকারিকরণ-বাণিজ্যিকীকরণ, ফি বৃদ্ধি, শিক্ষা সংকোচনের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক আন্দোলন চালিয়ে আসছে। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে প্রণীত সকল শিক্ষানীতি বিশ্লেষণ করে শাসকশ্রেণির শিক্ষা সম্পর্কিত দৃষ্টিভঙ্গির গণবিরোধী রূপ উন্মোচন করেছে ছাত্র ফ্রন্ট।

নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, যথাযথ প্রস্তুতি ও মূল্যায়ন-মতামত ছাড়াই জাতীয় শিক্ষাক্রম ২০২১ চালু করা হল। এই শিক্ষাক্রমের অনেক সীমাবদ্ধতা, পাঠ্যপুস্তকের অসঙ্গতি, শিক্ষকদের প্রস্তুতির ঘাটতি রয়েছে। ফলে ছাত্র-শিক্ষক-অভিভাবকেরা পড়ছেন বিপাকে। এছাড়া এই শিক্ষাক্রমে মূল লক্ষ্য নির্ধারন করা হয়েছে কারিগরিভাবে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করা, প্রকৃত মানব সৃষ্টি করা নয়। তাই ছাত্র ফ্রন্ট দাবি করছে ছাত্র-শিক্ষক-অভিভাবকসহ দেশের প্রথিতযশা শিক্ষাবিদদের মতামত নিয়ে শিক্ষাক্রমের মূল্যায়ন ও পরিমার্জন করার।

নেতৃবৃন্দ বলেন, দীর্ঘ পনেরো বছর একটানা ক্ষমতায় থাকার পর দেশবাসীর মত উপেক্ষা করে গত ৭ জানুয়ারি একতরফা ‘ডামি’ নির্বাচনের মাধ্যমে পুনরায় ক্ষমতার নবায়ন করে আওয়ামী ফ্যাসিবাদী দুঃশাসন দীর্ঘায়িত করতে যাচ্ছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে দেশের মানুষ দিশেহারা। ১২ কোটি মানুষ পুষ্টিকর খাবার থেকে বঞ্চিত। দেশের অর্থনৈতিক সংকট চরমে। রিজার্ভ ক্রমাগত কমছে। বেকারত্বের অভিশাপে ছাত্র-যুবকদের মধ্যে হতাশা ছড়িয়ে পড়ছে। সকল সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে দলীয় প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা হয়েছে। বিরোধী মত-পথ দমনের জন্য সাইবার নিরাপত্তা আইনের মতো নিবর্তনমূলক আইন জারি করেছে। বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম, খুন, নারী-শিশু নির্যাতন, টাকা পাচার, সীমাহীন লুটপাট, ব্যাংক লোপাট ও ও দুর্নীতি চলছে অবাধে। পাহাড় ও সমতলের আদিবাসীদের উপর চলছে নির্বিচারে

গুম, হত্যা, নির্যাতন ও ভূমি দখল। সীমান্তে চলছে মানুষ হত্যা। সর্বগ্রাসী এক সংকটে দেশ নিমজ্জিত হতে চলেছে। সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট মনে করে শিক্ষার সংকট সমাজের অপরাপর সংকট থেকে বিচ্ছিন্ন কিছু নয় তাই আজকে শিক্ষা-সংস্কৃতি-মনুষ্যত্ব রক্ষার এই সংগ্রামকে শক্তিশালী করা দরকার। দেশে যে আজ ফ্যাসিবাদী দুঃশাসন চলছে তা রুখে দিতে গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলতে ঐক্যবদ্ধ হোন।

সমাবেশ ও মিছিল শেষে সেগুনবাগিচাস্থ স্বাধীনতা হলে

১-৩ ফেব্রুয়ারী ‘২৪ ৩ দিনব্যাপি একাদশ কর্মী সদস্য সম্মেলনের পাঠচক্র শুরু হয়েছে। রাজনীতি, অর্থনীতি ও শিক্ষানীতি বিষয়ে এবং বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে পাঠচক্রে অতিথি হিসেবে উপস্থিত আছেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল -বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ, সহকারী সাধারণ সম্পাদক রাজেকুজ্জামান রতন,সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য নিখিল দাস,জর্নাদন দত্ত নান্টু।