শিক্ষামন্ত্রনালয়ে অডিটের আদেশ অমান্য করে কয়রা শাকবাড়িয়া স্কুল এন্ড কলেজে ২জন ভুয়া সনদধারী শিক্ষক বহাল…………… চলবে


রুদ্রবাংলা প্রকাশের সময় : ফেব্রুয়ারী ১, ২০২৪, ১৮:৪৬ /
শিক্ষামন্ত্রনালয়ে অডিটের আদেশ অমান্য করে কয়রা শাকবাড়িয়া স্কুল এন্ড কলেজে ২জন ভুয়া সনদধারী শিক্ষক বহাল…………… চলবে

কয়রা খুলনা প্রতিনিধি :
খুলনার কয়রা উপজেলার কয়রা শাকবাড়িয়া স্কুল এন্ড কলেজের ২জন শিক্ষক ভুয়া সনদ নিয়ে চাকুরীতে বহাল আছে। শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের অডিট টিম গত ১২-০২-২০১৭ তারিখের ব্রডশীট জবাবে এ বিষয়ে স্পষ্ট ভাবে উপস্থাপন করলেও প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক ও সভাপতি মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে সব কিছু ধামা চাপা দিয়ে উক্ত শিক্ষকদ্বয়কে চাকুরীতে বহাল রেখেছেন। মন্ত্রনালয়ের উক্ত অডিড প্রতিবেদনে অডিটর লিখেছেন,
“(ঝ) নিয়োগ সংক্রান্ত তথ্য ও মন্তব্য ঃ হিন্দু ধর্মীয় শিক্ষক জনাব শৌমেন্দ্র নাথ অধিকারী ইনডেক্স-৫১৩৮৬৯ ২৩/০৭/২০০০ তারিখে যোগদান করেন এবং ০১/০২/২০০১ তারিখে এমপিওভুক্ত হয়। তার নিয়োগ রেকর্ড যাচাইয়ে দেখা যায় দৈনিক জন্মভুমি পত্রিকায় ২৩/০৬/২০০০ তারিখে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রচার করা হয়। ০৮/০৭/২০০০ তারিখে নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ আছে যে একজন ধর্মীয় শিক্ষক/শিক্ষিকা বিএ কাব্যতীর্থ/ কাব্যতীর্থ অধ্যয়নরত আবশ্যক। তার আবেদনে উল্লেখ আছে ধর্মীয় বিষয়ে কাব্যতীর্থ অধ্যয়নরত। হিন্দু ধর্মীয় বিষয়ে জারিকৃত মন্ত্রণালয়ের পরিপত্রে হিন্দু ধর্মীয় বিষয়ের শিক্ষকের শিক্ষাগত যোগ্যতা উল্লেখ আছে যে হিন্দু ধর্মীয় বিষয়ে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ¯œাতক। মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র মোতাবেক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রচার করা হয়নি। নিয়োগকালে তার কাম্য শিক্ষাগত যোগ্যতা আদ্য, মধ্য. উপাধী ডিগ্রী না থাকায় তার আবেদন বাতিলযোগ্য কিন্তুু তার আবেদনপত্র বাতিল না করে স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে কাম্য যোগ্যতা না থাকা সত্বেও তাকে নিয়োগ করায় তার নিয়োগ বিধিসম্মত হয়নি। নিয়োগ বিধিসম্মত না হওয়ায় তিনি সরকারি বেতনভাতা প্রাপ্য নয় এবং তৎকর্তৃক ০১/০২/২০০১ তারিখ হতে ৩১/০১/২০১৭ তারিখ পর্যন্ত গৃহিত ১৩,৫৭,৬৭৮/- টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরতযোগ্য। (২) সহকারী শিক্ষক কম্পিউটার জনাব শ্রাবন্তী অধিকারী ইনডেক্স- ১০৩৫০০৭ ১০/০২/২০০৫ তারিখে যোগদান করেন এবং ০১/০৮/২০০৭ তারিখ এমপিওভুক্ত হন। তার নিয়োগ সংক্রান্ত রেকর্ড যাচাইয়ে দেখা যায় দৈনিক জন্মভ‚মি পত্রিকায় ১০/১২/২০০৪ তারিখে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রচার করা হয়। ০৪/০২/২০০৫ তারিখে নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। তার শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদে দেখা যায় তিনি ২০০৪ সালে ওঘঝঞওঞটঞঊ ঙঋ ওঈঞ (ওঘঋঙজগঅঞওঙঘ অঘউ ঈঙগগটঘওঈঅঞওঙঘ ঞঊঈঐঘঙখঙএণ) হতে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। উক্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত নয়। ২৪/১০/১৯৯৫ তারিখের নীতিমালায় কম্পিউটার বিষয়ের শিক্ষকের যোগ্যতায় উল্লেখ আছে যে নট্রামস বা সরকার কর্তৃক নির্ধারিত প্রতিষ্ঠান হতে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত হতে হবে। নিয়োগকালে তার কাম্য যোগ্যতা ছিলনা বিধায় তার নিয়োগ বিধিসম্মত হয়নি। তিনি চাকুরীরত অবস্থায় ২০০৬ সালে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান থেকে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। স্বীকৃতি প্রাপ্ত বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকের চাকুরীর শর্ত বিধিমালা -১৯৭৯ এর ২৩(১) অনুচ্ছেদে উল্লেখ আছে যে, কোন শিক্ষকের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় মনে হয় তাহলে শিক্ষা ছুটি মঞ্জুর করতে পারে। তিনি যোগদান করেন ১০/০২/২০০৫ তারিখ। তার চাকুরী ৫ বছর পূর্ণ হওয়ার মধ্যে তিনি ২০০৬ সনে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ সনদ অর্জন করায় ১৯৭৯ এর চাকুরী বিধি মোতাবেক অর্জিত সনদ এর দাবিতে সরকারি বেতন প্রাপ্য নয়। কাজেই ১৪/১০/১৯৯৫ তারিখের নীতিমালা মোতাবেক নিয়োগকালে নট্রাম্স বা সরকার কর্তৃক নির্ধারিত প্রতিষ্ঠান হতে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ সনদ না থাকায় তার নিয়োগ বিধিসম্মত হয়নি বিধায় তিনি সরকারি বেতন-ভাতা পাবেন না এবং তৎকর্তৃক ০১/০১/২০০৭ তারিখ হতে ৩১/০১/২০১৭ তারিখ পর্যন্ত গৃহীত ১১,৮৮,৮৭০/ – টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরতযোগ্য। মহিলা কোটা : মন্ত্রণালয়ের স্মারক নং – শিম/শাঃ১৩/এমপিও/৩০% -৭/২০০৯/১৯৬, তারিখ: ৭/৮/২০১২ পরিপত্রে খুলনা জেলার কয়রা উপজেলায় মহিলা শিক্ষক নিয়োগের বাধ্যবাধকতা শিথিলযোগ্য বিবেচিত হবে মর্মে উল্লেখ আছে।”
জানা গেছে উক্ত শিক্ষকদ্বয় স্বামী-স্ত্রী। যাহার ফলে সভাপতি ও প্রতিষ্ঠান প্রধান মন্ত্রনালয়ের উপরোক্ত প্রতিবেদনকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে তাদের নিকট থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে তাদের চাকুরী বহাল রেখেছে। এ বিষয়ে উক্ত প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক আবু বাক্কার সিদ্দিকের ০১৩০৯১১৭২০৩ মোবাইল ফোনে কথা চেষ্টা করলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। এছাড়া ভুয়া সনদধারী শিক্ষক সৌমেন অধিকারীর ০১৯১৮৬১৪৩৬৮ নম্বর ফোনে বার বার ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেন নাই। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উক্ত প্রতিষ্ঠানের একাধিক শিক্ষক, কিছু অভিভাবক এবং এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, উক্ত প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকের নামে অনেক অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ রয়েছে। তারা আরও বলেন তিনি টাকা ছাড়া কিছুই চেনেন না। তারা সকলেইসহ এলাকাবাসী নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে উক্ত স্কুলের প্রধান শিক্ষকের সকল অপকর্মের সুষ্ঠু বিচার দাবী করেছেন।