কয়রায় বলাৎকারের পর হত্যা করা হয় শিশু খালিদ হাসানকে


রুদ্রবাংলা প্রকাশের সময় : জানুয়ারী ২৯, ২০২৪, ১৩:৪২ /
কয়রায় বলাৎকারের পর হত্যা করা হয় শিশু খালিদ হাসানকে

খুলনার কয়রা উপজেলায় ২৪ ঘন্টার মধ্যে কিশোর খালিদ হাসানকে (৬) হত্যার রহস্য ভেদ করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার করা হয়েছে জাহিদ হাসান সুমন (১৭) নামে এক কিশোর অপরাধীকে। তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। বলাৎকারের পর হত্যা করা হয় শিশু খালিদ হাসানকে।

গত ২৬ জানুয়ারি নানা বাড়ি থেকে নিখোঁজের ৯ ঘণ্টা শুক্রবার রাত ১২টার দিকে উপজেলার মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের তেঁতুলতলার চর গ্রামের খোকন গাজীর বাড়ির পেছনের মৎস্যঘেরের পাড় থেকে শিশু খালিদ হাসানের লাশটি উদ্ধার করেন এলাকাবাসী। নিহত শিশুটি নানা বাড়িতে বেড়াতে এসে হত্যা কান্ডের শিকার হন। এ ঘটনায় নিহতের বাবা মোঃ কামাল হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে কয়রা থানায় একটি হত্যা মামলা (নং-৮ তাং-২৭/০১/২৪ ধারা-৩০২/২০১/৩৪ দায়ের করেন। শনিবার ববার (২৭ জানুয়ারী) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত জাহিদ হাসান সুমনকে তার রিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। কিশোর অপরাধী জাহিদ হাসান সুমন(১৭) মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের তেতুলতলা গ্রামের জামাল শিকারীর ছেলে। কিশোর অপরাধী জাহিদ হাসান সুমন কয়রা কপোতাক্ষ কলেজে দ্বাদশ ১ম বর্ষের ছাত্র।

পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জাহিদ হাসান তার অপরাধ স্বীকার করেছেন। গতকাল রোববার গ্রেপ্তার ওই কিশোর আদালতে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে। কয়রার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. আজাহারুল ইসলাম এই জবানবন্দি রেকর্ড করেন।
জবানবন্দি অনুযায়ী,২৬ জানু দুপুরে কিশোর অপরাধী জাহিদ হাসান তার বন্ধু (ছোট) আব্দুল্লাহ, রমজান এবং মোশারেফ হাজী একত্রে ভিকটিম খালিদ এর নানার দোকানে বসে গল্প করছিল। গল্প শেষে বাড়ী ফেরার সময় খালিদ জাহিদ হাসান সুমনের সাথে তাদের বাড়ীতে যায়। সুমনের বাড়ীতে তার মা ও বোন বাড়ীতে না থাকায় সুমনের মনে কাম ইচ্ছা জাগে। তখন বাড়ীর সামনে রাস্তার পাশে সুমনের দাদার থাকার খালি ঘরের মধ্যে খালিদকে নিয়ে প্রবেশ করে খালিদকে ওপর যৌন নিপীড়ন চালায় (বলাৎকার)। যৌন নিপীড়নের পর (বলাৎকার) খালিদকে ছেড়ে দেয়। খালিদ এই ঘটনা সবাইকে বলে দেব তখন সুমন ভয় পায়।লোকলজ্জার ভয়ে খালিদকে ঘরের ভিতর নিয়ে হাত দিয়ে তার গলার শ্বাস নালী স্বজোরে চেপে ধরে রাখে খালিদ নিস্তেজ হয়ে গেলে তার মাথা ধরে হ্যাচকা মোচড় মারে। খালিদ নড়াচড়া বন্ধ করে দিলে তাকে উক্ত খাটের নিচে রেখে মোটরসাইকেল চালক রমজানকে ডেকে তাদের ফার্মের ১৫ টি মুরগি নিয়ে চৌকুনী বাজার বিক্রয় করে পুনরায় বাড়ীতে এসে দেখে তার মা বোন বাড়ীতে ফেরেন নাই। তখন পুনরায় খালিদকে খাটের নিচ থেকে বাহির করে। খালিদের শরীরে হাত দিয়ে দেখে সামান্য নড়াচড়া করছে। বেচে আছে সন্দেহে পুনরায় ঘরের বেড়ার লাইলনের সুতা ব্লেড দিয়ে কেটে খালিদ এর গলায় পেচিয়ে শ্বাসরোধ করে মৃত্যু নিশ্চিত করে। পুনরায় খালিদ এর মৃত দেহ খাটের নিচে লুকিয়ে রেখে জাহিদ খালিদকে খোজার লোকজনের সাথে মিশে খালিদকে খোজার অভিনয় করে। এই সময় জাহিদ এর মা বোন ও প্রতিবেশী নানী তাদের বাড়ীতে খালিদকে খুজতে আসে। তাদের সাথেও স্বাভাবিকভাবে কথা বলে। সন্ধ্যার পরে জাহিদ এর মা বোন বাড়ীর বাহিরে গেলে মাগরিবের নামাযের পরে খালিদ এর লাশ ঘর থেকে বাহির করে। তাদের বাড়ীর উত্তর পাশের ঘেরের মধ্যে দিয়ে হেটে সোজাসুজি মনিরুল এর মৎস্য ঘেরের দক্ষিণ পার্শ্বের ভেড়িবাধের উপর ফেলে রাখে। কয়রা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন,খবর পেয়ে ঘটনাস্থানে পৌছে শিশু লাশ দেখে শিশু শরীরের চিহ্ন ও কিছু লক্ষণ দেখে বোঝা যাচ্ছিল এটি পরিকল্পিত হত্যাকান্ড। আশে পাশের সকল খোঁজ খবর নিয়ে খুঁটিনাকি খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখে জানতে পারি পাশের এক ছেলের সাথে বার হয় । সেই ছেলেকে খোঁজা খোঁজির পরে তার বন্ধুদের মাধ্যমের তাকে আনার পর তার আচারণ অস্বাভাবিক মনে হয় সে কাঁপতে থাকে। পরে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওই কিশোর নিজের দোষ স্বীকার করে। ওসি আরও বলেন, নিহত শিশুর বাবার করা অজ্ঞাত মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হলে সে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।