খেজুরের রস চোরের হাত থেকে বাঁচাতে হাঁড়িতে তালা।


রুদ্রবাংলা প্রকাশের সময় : জানুয়ারী ১২, ২০২৪, ০৯:২৪ /
খেজুরের রস চোরের হাত থেকে বাঁচাতে হাঁড়িতে তালা।

( শরীয়তপুর প্রতিনিধি)

মানুষ তার মূল্যবান সম্পত্তি চোরেদের হাত থেকে রক্ষা করতে সচারাচর লোহার শিকল ও তালা ব্যবহার করে এটাই স্বাভাবিক। তবে মাটির হাড়িতে তালা ব্যবহার করা হয় এমন বিষয় সত্যিই অবাক করার মতো। চোরেদের হাত থেকে রসের হাড়ি বাঁচাতে এমনই এক অভিনব কৌশল বেছে নিয়েছেন শরীয়তপুরের গোসাইরহাটের এক গাছি। এদিকে এ ঘটনা জানাজানি হলে তালাবদ্ধ রসের হাড়ি দেখতে ভীড় জমানো শুরু করছেন এলাকার উৎসুক জনতা।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শরীয়তপুরের গোসাইরহাট পৌরসভার মহিষকান্দি এলাকার হারুন সরদার (৫০)। দীর্ঘ ২০ বছর ধরে শীত মৌসুমে খেজুর গাছ কেটে রস সংগ্রহ করে তা দিয়ে গুড় তৈরি করে বাজারে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। চলতি বছর তিনি ১৭০টি খেজুর গাছ কেটে রস সংগ্রহ করে আসছেন। আর এসব গাছ থেকে রস সংগ্রহের জন্য প্রয়োজন হয় মাটির হাড়ি। যার একেকটির মূল্য প্রায় ১০০ টাকা। তবে চলতি বছর প্রতিরাতেই এসব গাছ থেকে হাড়িসহ রস চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে চোরেরা। চোরেদের হাত থেকে রসের হাড়ি বাঁচাতে গাছের গোড়ায় বিভিন্ন গাছের কাটা আর কয়েকদিন রাত জেগে পাহাড়া দেয়ার পরেও সুরাহা না মেলায় সিদ্ধান্ত নেন শিকল দিয়ে তালা লাগানোর বিষয়টি। যেমন ভাবা তেমন কাজ, পরে বাজার থেকে তালা আর শিকল কিনে গাছের সাথে জুড়ে দেন তিনি।

আরিফ হাসান নামের এক ব্যক্তি বলেন, এখন আর তেমন খেজুর গাছ দেখা যায়না। একটা সময় ছিলো অল্প টাকায় খেজুর রস কিনে খাওয়া যেতো। খেজুর রসের দাম বেড়ে যাওয়ায় চোরেরা এখন খেজুর রস চুরি করে নিয়ে যায়। তবে খেজুর গাছে হাড়ির সঙ্গে শিকল দিয়ে তালাবদ্ধ করতে এই প্রথম দেখলাম। ওনার বুদ্ধি দেখে বিষয়টি খুব ভালো লাগলো।

আল-আমিন নামের এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, শীতের মধ্যে খুব পরিশ্রম করে হারুন ভাই গাছ কেটে রস সংগ্রহ করে থাকেন। এই আয় দিয়েই তার সংসার চলে। তবে কিছুদিন ধরে চোরেরা রস চুরি করার পাশাপাশি হাড়িও ভেঙে ফেলে। তার এই বুদ্ধিটি খুব ভালো লাগলো। এখন আর চোরেরা হাড়ি নিয়ে যেতে পারবে না।

গাছি হারুন সরদার বলেন, এই মৌসুমে এলে আমি রস বেঁচে সংসার চালাই। কিন্তু চোরেরা প্রতিরাতেই আমার হাড়িসহ রস চুরি করে নিয়ে যায়। এতে আমি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিলাম। প্রতিদিন গাছ কাটার পর গাছের গোড়ায় কাটা দিয়ে রাখলেও সেটা সরিয়ে ফেলে রস চোরেরা। পরে বাধ্য হয়ে চুরি ঠেকাতে বাজার থেকে শিকল আর তালা কিনে হাড়িতে দিয়ে রাখি।

স্থানীয় কাউন্সিলর বিপ্লব ঢালী বলেন, কিছু লোক রাতের আধারে হারুন ভাইয়ের রস চুরি করে খেয়ে ফেলে। তারা রস খাওয়ার পাশাপাশি হাড়ি ভেঙে ফেলে। তাই হারুন ভাই গাছে তালা আর শিকল ঝুলিয়ে রেখেছেন। এখন আর কেউ তার হাড়ি ভাঙতে পারবে না।