সালিশ বৈঠকে স্বামীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে স্ত্রীকে তালাক দিতে বলায় স্বামীর আত্মহত্যার চেষ্টা


রুদ্রবাংলা প্রকাশের সময় : নভেম্বর ২৬, ২০২৩, ২৩:২৯ /
সালিশ বৈঠকে স্বামীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে  স্ত্রীকে তালাক দিতে বলায় স্বামীর আত্মহত্যার চেষ্টা

পিরোজপুরের কাউখালীতে মহিলা পরিষদ কার্যালয় সালিশ বৈঠকে স্বামীর অনিচ্ছায় স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার কথা বলায় স্ত্রীর ওপর অভিমান করে স্বামী মোঃ শাওন হাওলাদার (২২) নামের এক যুবক সালিশ বৈঠকে বসে বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।

শনিবার (২৫ নভেম্বর) সন্ধ্যার পরে উপজেলা পরিষদের সামনে মহিলা পরিষদের কাউখালী উপজেলা শাখার কার্যালয়ে সালিশ বৈঠক চলাকালীন সময়ে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় ব্যক্তিরা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে কাউখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।পরে তাকে সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরন করা হয়। মোঃ শাওন হাওলাদার উপজেলার চিরাপাড়া পারসাতুরিয়া ইউনিয়নের ডুমজুরি গ্রামের মোঃ শহিদুল ইসলাম হাওলাদারের ছেলে ও তার স্ত্রী ফাতেমা আক্তার(১৪) একই ইউনিয়নের মোহাম্মদ আলমাচ হোসেনের মেয়ে।

ভুক্তভোগী শাওন জানান, কিছুদিন পূর্বে সাংসারিক অশান্তির কারণে ফাতিমা আক্তার ও শাওনের সঙ্গে ভুল বুঝাবুঝির সৃষ্টি হয় এ সময় স্ত্রী ফাতেমা সংসার করবে না বলে বাপের বাড়ি চলে যায়। এর কয়ে দিন পর স্ত্রীকে আনতে শ্বশুর বাড়ি গেলে ফাতিমা শাওনকে তার স্বর্নালঙ্কার ও কিছু টাকা তার বাবার বাড়িতে দিয়ে যাওয়ার জন্য বলেন। শাওন তার কথা মতন তা দিয়ে তাকে বাড়িতে যাওয়ার জন্য বললে কয়েক দিন পরে যাবে বলে। এর কিছু দিন পরে ফাতিমা শাওনের বাড়িতে না এসে তার বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ তুলে তার সঙ্গে সংসার করবেন না বলে মহিলা পরিষদে একটি লিখিত অভিযোগ দেন।
অভিযোগ পেয়ে মহিলা পরিষদ গত বৃহস্পতিবার শাওনকে পরিষদে উপস্থিত হওয়ায় জন্য নোটিশ প্রদান করেন। ওই দিন উভয় পক্ষে সালিশ বৈঠকে উপস্থিত হলে উভয় পক্ষের কথা শুনে শনিবার পরবর্তী সালিশ বৈঠকের দিন ধার্য করেন মহিলা পরিষদের সালিশদারগন। সেই অনুযায়ী শনিবার ওই সালিশ বৈঠকে ফাতিমা শাওনের সঙ্গে আর সংসার করবেনা বলে ফাতিমা ও তার মা সালিশ বৈঠকে যানান। পরে সালিশ দারগন উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলে তাদের বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য বৈঠকে কাজীকে ডাকেন। কাজী এসময় তালাক নামায় শাওনকে স্বাক্ষরের জন্য বললে সে স্বাক্ষর না করে তার সাথে থাকা বিষপান করে অসুস্থ হয়ে পড়েন । পরে উপস্থিত লোকজনের সহায়তায় পরিবারের লোকজন তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যায়।

আত্মহত্যা চেষ্টা কারা শাওন বলেন, আমার স্ত্রী গত তিন মাস আগে তার বাবার বাড়িতে বেড়াতে যায়। এর কয়েক দিন পরে আমি তাকে আনতে গেলে সে আরো কয়েক দিন বেড়িয়ে তার পরে যাবে। এর কিছু দিন পর সে আমার সঙ্গে সংসার করবে না বলে মহিলা পরিষদের দরখাস্ত দেয়। এনিয়ে শনিবার সন্ধ্যায় সালিশ বৈঠকে আমার স্ত্রী তার বাবা মায়ে চাপে তাদের কথা মতন আমাকে তালাক দিতে রাজি হয়। আমি আমার স্ত্রীর সঙ্গে সংসার করতে চাই আমি তাকে তালাক দিতে চাই না। সে যখন তার মা বাবার কথামতো আমার সাথে সংসার করবেনা তখন আমার জীবন শেষ করে দেয়ার জন্য কীটনাশক ঔষধ খাইছি।

সালিশ বৈঠকে উপস্থিত থাকা মহিলা পরিষদের
সভানেত্রী সুনন্দা সমাদ্দার বলেন, মেয়েটি শাওনের সঙ্গে সংসার করবেনা বলে তার মা সিদ্ধান্ত নিলে উভয় পরিবারের উপস্থিতিতে তাদের তালাকের সিদ্ধান্ত হয় । তখন তালাকের জন্য কাজী ডেকে আনলে কাজী তালাকের জন্য শাওনকে তালাক নামায় স্বাক্ষর দিতে বললে শাওন তার সাথে গোপন করে রাখা কীটনাশক পান করে।
কাউখালী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মোঃ নজরুল ইসলাম রাজু বলেন, শাওন হাওলাদারকে কীটনাশক পানকরা অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরন করা হয়েছে।

কাউখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ জাকারিয়া বলেন, সালিশ বৈঠকে বসে শাওন হাওলাদার নামের এক যুবক বিষপান আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন বলে সংবাদ পেয়েছি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।