স্বরূপকাঠিতে সহকারী শিক্ষা অফিসার মজনু মোল্লার ঘুষ নিয়ে অডিও ফাঁস


রুদ্রবাংলা প্রকাশের সময় : নভেম্বর ৪, ২০২৩, ০৯:৫৭ /
স্বরূপকাঠিতে সহকারী শিক্ষা অফিসার মজনু মোল্লার ঘুষ নিয়ে অডিও ফাঁস

পিরোজপুর প্রতিনিধি : পিরোজপুরের স্বরূপকাঠি (নেছারাবাদ) উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষা অফিসার (এটিইও) মো. মজনু মোল্লার বিরুদ্ধে সীমাহীন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষকদের কাছ থেকে ঘুষ নেয়া নিয়ে ওই শিক্ষা অফিসারের সাথে উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের একাধিক কথোপকথনের অডিও ক্লিপ ফাঁস হয়েছে। ওই অডিও ক্লিপগুলো প্রতিবেদকের সংগ্রহে রয়েছে।
এঘটনার পরে এটিইও মজনু মোল্লার বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ এনে তার অপসারণ দাবি করে উপজেলা চেয়ারম্যান এবং উপজেলা শিক্ষা অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন উপজেলায় কর্মরত বহু শিক্ষক।
জানা গেছে, গত ২০২০ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর স্বরূপকাঠি উপজেলায় সহকারী শিক্ষা অফিসার পদে যোগদান করেন মো. মজনু মোল্লা। যোগদানের কিছুদিন পরেই তার কর্মকাণ্ডে উপজেলার সিংহভাগ শিক্ষকদের মাঝে অসন্তোষ দেখা দেয়। দিনে দিনে তার অনিয়ম চরম আকার ধারণ করলে বিভিন্ন সময় তার বিরুদ্ধে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে ইউপি চেয়ারম্যান, শিক্ষক ও অভিভাবকরা লিখিত এবং মৌখিক অভিযোগ দেন।
এটিইও মজনু মোল্লা উপজেলার ইদিলকাঠি ক্লাস্টারের দায়িত্বে থাকা অবস্থায় তার বিরুদ্ধে নানা ধরনের দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠলে চলতি বছরের গত ২৫ এপ্রিল তাকে জলাবাড়ি ইউনিয়নের ইদিলকাঠি ক্লাস্টার থেকে সরিয়ে বলদিয়া ইউনিয়নের বালিহারী ক্লাস্টারের দায়িত্ব দেয়া হয়। সেখানেও তার বিরুদ্ধে একই অভিযোগ উঠলে গত ০৮ আগস্ট তাকে বালিহারী ক্লাস্টার থেকে সরিয়ে সমুদয়কাঠি ক্লাস্টারের দায়িত্ব দেয়া হয়।
পিরোজপুরের ৯৯ নং মধ্য চঙ্গুপাশা পল্লিমঙ্গল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক মো. রিপন মোল্লা অভিযোগ করে বলেন, আমার স্ত্রী ঝুমুর খাতুন সমুদয়কাঠি ক্লাস্টারের ৯১ নং বিনায়েকপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষিকা পদে দায়িত্ব পালন করছিলো তাকে সেখান থেকে পিরোজপুরে ৪১ নং চলিশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলির জন্য আমি আবেদন করি। পরে ওই আবেদনের পেক্ষিতে ওই ক্লাস্টারের দায়িত্বে থাকা এটিইও মো.মজনু মোল্লা আমার কাছ থেকে বিশ হাজার টাকা নিয়েছেন।
দক্ষিণ কৌরিখাড়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আসলামসহ উপজেলার একাধিক শিক্ষকরা অভিযোগ করে বলেন, এটিইও মজনু মোল্লা স্লিপ বরাদ্ধ, ঋণ সুপারিশ, পোষ্টিং, রুটিন, মাইনর, এডুকেশন ইমারজেন্সি, ছুটির আবেদনসহ নানা ধরনের কাজে শিক্ষকদের বিভিন্ন ভয় দেখিয়ে ও হয়রানি করে অর্থ আদায় করে থাকেন।

অভিযোগের বিষয়ে সহকারি শিক্ষা অফিসার মো. মজনু মোল্লার কাছে জানতে চাইলে তিনি এ ব্যাপারে কোন মন্তব্য করতে অপরাগতা প্রকাশ করেন।
এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. নাসির উদ্দিন খলিফা বলেন, আমি এখানে যোগদানের পর থেকেই এটিইও মো. মজনু মোল্লার বিরুদ্ধে বিভিন্ন মাধ্যম থেকে বহু অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পেয়ে তাকে বহুবার সতর্ক করেছি এবং ক্লাস্টার পরিবর্তন করেছি। কিন্তু কিছুতেই তিনি তার অনিয়ম বন্ধ করছেন না। আমি তার ব্যাপারে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি, আশা করি তারা তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
নেছারাবাদ উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা শিক্ষা কমিটির সভাপতি আব্দুল হক বলেন, এটিইও মজনু মোল্লার বিরুদ্ধে অর্থ কেলেংকারীর অভিযোগ পেয়ে তদন্ত করে এর সত্যতা পাওয়া গেলে তাকে এ ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকার জন্য বলা হলেও তিনি নিভৃত হওয়াতো দুরের কথা দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছেন।

রবিউল হাসান মনির
পিরোজপুর প্রতিনিধি