কাউখালীতে সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে চান্দিনা ভিডির বন্ধবস্ত নিয়ে বসতবাড়ী নির্মাণ


রুদ্রবাংলা প্রকাশের সময় : অক্টোবর ২৪, ২০২৩, ১৫:০৭ /
কাউখালীতে সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে চান্দিনা ভিডির বন্ধবস্ত নিয়ে বসতবাড়ী নির্মাণ

বিশেষ প্রতিনিধিঃ পিরোজপুর জেলার কাউখালী বাজারের চান্দিনা ভিডির জায়গায় বসতবাড়ী। বাজার সম্প্রসারিত না হওয়ায় ভোক্তার ভোগান্তি।

দীর্ঘদিন ধরে চান্দিনা ভিডি নামে বরাদ্দকৃত জায়গায় দোকান বা ব্যবসা না করে বসতবাড়ি হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এরফলে বাজার সম্প্রসারিত করা সম্ভব হয় না। এতে ব্যবসায়ী ও ভোক্তাদের ক্রয় বিক্রয় করতে চরম ভোগান্তি হয়। দিন দিন জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও কাউখালী হাট-বাজারের দীর্ঘদিন ও সম্প্রসারিত হয় নাই বলে ব্যাবসায়ী ও ভোক্তাদের অভিযোগ। ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের দীর্ঘ দিনের দাবির পরিপেক্ষিতে উপজেলা প্রশাসন এক বছর আগে হাট বাজার সম্প্রসারণের উদ্যোগ গ্রহণ করে।

তবে বাজার সম্প্রসারণ করতে গিয়ে প্রশাসন নানা বাধার সম্মুখীন হওয়ায় সম্প্রসারণ কার্যক্রম থেমে যায় । সরজমিনে অনুসন্ধান করে জানা যায়, প্রভাবশালী ব্যক্তিরা হাট-বাজারের অনেক জায়গা ব্যবসা করার কথা বলে এক বছরের বন্দোবস্ত নিয়ে দোকানের পরিবর্তে বসত বাড়ি তৈরী করেছে। এমনই একজন বসতবাড়ি নির্মাণকারী ব্যবসায়ী আব্দুল মান্নান বলেন তিনি ২০১৬ সালে ৪ ব্যক্তির নামে একসনা বন্দোবস্ত থাকা ২ শতাংশ জমি ক্রয় করেছেন। তবে ক্রয়ের কথা বললেও কোন দলিল পত্র দেখাতে পারেন নাই। তিনি জানান তার জায়গার আশেপাশে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে না ওঠায় তিনি এই জমিতে ১৩ লক্ষ্য টাকা খরচ করে বাড়ি তৈরী করেছেন। তার পাশাপাশি আবুল কাশেম নামে আরেক ব্যক্তি দোকানে জায়গায় বসতবাড়ি বানিয়ে বসবাস করছেন।

এছাড়া দোকানের নামে এক সনা বন্দোবস্ত নিয়ে বাড়ি তৈরি করে বসবাস করা দক্ষিণ বাজারের কয়েকজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বলেন আমাদের বসবাসের বাড়ি নাই, বসবাসের জায়গা হলে এখানে দোকান করা হবে। অন্যদিকে প্রভাবশালী অনেকেই আছেন একশনা বন্দোবস্ত নিয়ে বাড়ি ঘর নির্মাণ করে বছরের পর বছর দোকান না করে বসত বাড়ি হিসাবে ভাড়া দেয়। অথচ বাজার সম্প্রসারণ না হওয়ায় সরকার বিপুল পরিমাাণ রাজস্ব বঞ্চিত হয় । এছাড়া হাটের দিন ভাসমান দোকান বসার জায়গা না পেয়ে ফুটপাতের দুইপাশে তোহা বাজার হিসেবে ব্যবসায়ীরা দোকানের পসরা সাজিয়ে বেঁচা-কেনা করে । এতে করে হাট-বাজারে আশা হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত-চলাফেরা সহ বিভিন্ন ধরণের অসুবিধার সম্মুখিন হয় । ১৯৯৮-৯৯ সালে কাউখালী হাট-বাজার পেরিফাই করে নির্দিষ্টভাবে পন্যদ্রব্য বিক্রির স্থান নির্ধারণ করে দেয় প্রশাসন । দূর দুরান্ত থেকে আসা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা এসকল নির্ধারিত স্থানে পণ্যদ্রব্য বিক্রি করার জায়গা না পেয়ে রাস্তার দুই পাশে চলার পথ রোধ করে দোকান নিয়ে বসে পণ্য বিক্রি করেন । এতে দুর্ভোগে পড়ছে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়। এই হাট-বাজারে এ পর্যন্ত ৬শত ৭৫টি দোকান বন্দোবস্ত দেয়া হয়। ব্যবসায়িক দোকানের জন্য বন্দোবস্তত নেওয়া জায়গায় দোকান না করে অবৈধভাবে ব্যবহার করায় প্রতি বছর হাট-বাজারের পরিধি কমে যায় এবং ব্যবসা সংকুচিত হয়ে সরকারের লক্ষ লক্ষ টাকা রাজস্ব বঞ্চিত হয়।

বছরে সরকার এই হাট থেকে প্রায় কোটি টাকা রাজস্ব আয় হলেও দীর্ঘ এক যুগেও এর পরিধি বাড়েনি। এমনকি সাধারণ ক্রেতা বিক্রেতা দের জন্য তৈরি করা হয় নাই তেমন কোনো বাথরুম ও টয়লেট। শীঘ্রই উপজেলা প্রশাসন কাউখালীর হাট-বাজারের সম্প্রসরনের জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করবে বলে ভূমি অফিস সূত্রে জানা গেছে। অবৈধ বসত বাড়ি দখলদারদের উচ্ছেদ করার ব্যাপারে কাউখালী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বায়েজিদুর রহমান জানান, অবৈধ বসতবাড়ি ও দখলদারদের চিহ্নিত করে সরকারি জায়গা উদ্ধার করা হবে। রাজস্ব আয় বৃদ্ধির করার জন্য উদ্বোধন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে খুব শীঘ্রই বাজার সম্প্রসারণ করার উদ্যোগ গ্রহন করা হবে।