রাজধানীর উত্তরার হার্ডওয়্যার দোকানগুলো ছেয়ে গেছে ভেজাল পন্যে


রুদ্রবাংলা প্রকাশের সময় : অক্টোবর ১৫, ২০২৩, ২৩:৫৪ /
রাজধানীর উত্তরার হার্ডওয়্যার দোকানগুলো ছেয়ে গেছে ভেজাল পন্যে

মিজান বীন নূর – রাজধানী উত্তরায় হার্ডওয়্যার ব্যাবসায়ীদের একটি বড় অংশ ইদানিং কোন বাছবিচার ছাড়াই প্রশাসনের নাকের ডগায় চালিয়ে যাচ্ছে ভেজাল ব্যবসা। সরেজমিন অনুসন্ধানে আমাদের প্রতিনিধি কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে যান।

আজমপুর রেলগেটের নিকট মাহমুদ হার্ডওয়্যার নামে একটি প্রতিষ্ঠানে গিয়ে দেখতে পান নামীদামী কোম্পানিগুলোর বিভিন্ন হার্ডওয়্যার দ্রব্য যেমন লক,কব্জা, স্পিরিট, গালা, রঙ,থ্রিনারসহ অন্যান্য প্রায় প্রতিটি দ্রব্যেই ভেজাল ভেজাল করার মত বিকল্প রয়েছে। আবার কখনও কখনও ক্রেতার চাহিদা না থাকলেও নিজেদের ব্যবসায়ের মুনাফা জন্যে কয়েকগুণ বেশী দামের দ্রব্যের সাথে নিম্নমানের (কম দামের) দ্রব্যের মিশ্রণ করা হচ্ছে । এমন নির্মাণ সামগ্রী কিনে ক্রেতারা আর্থিক এবং নির্মাণকাজে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। ফলে বছর না ঘুরতেই পাল্টাতে হয় দ্রব্যগুলো। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ক্রেতা জানায় মাহমুদ হার্ডওয়্যার থেকে পন্য কিনতে গেলে দোকানী যমুনার স্পিরিট এর সাথে অন্য ক্যামিক্যাল মিশিয়ে পরিমানে বাড়িয়ে অধিক মুনাফা করেছে।

একজন শিক্ষক জানান তার বাড়িতে রং কিনে লাগিয়েছেন দুই মাস আগে । এখনই সেই রঙ বিবর্ণ হয়ে গেছে। এমন অভিযোগ পলিশে ব্যবহৃত দ্রব্য নিয়েও রয়েছে বিস্তর। এই সকল প্রকৃত দ্রব্যের বায়রে নকল দ্রব্য চিহ্নিত করতে না পারায় এবং দ্রব্যগুলো বহুল ব্যবহৃত না হওয়ায় ক্রেতারা ঠকছে হরদম। ভুক্তভোগী অনেকেই ভোক্তা অধিকার এর টিম দিয়ে অভিযান চালনার পক্ষে মত দিয়েছেন । যেন ক্রেতাসাধারণ অর্থ অপচয় এবং ক্ষতিগ্রস্ত হবার হাত থেকে বাচতে পারেন। এ ছাড়াও অভিযোগ উঠেছে, মাহমুদ হার্ডওয়্যার এর মত উল্লেখযোগ্য কিছু প্রতিষ্ঠান চোলাই মদ প্রস্তুতকারী বিক্রেতাদের নিকট স্পিরিট সরবরাহ করে থাকে।

অনেকে আবার নিজেরাই তৈরি করে বিক্রি করে। এমন অনেক প্রতিষ্ঠানের স্পিরিট মজুদের বা ব্যবসায়ের কোন বৈধ কাগজপত্র নাই বলে জানা গেছে । দোকানের ভেতরে এবং পাশে ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকার মধ্যে রয়েছে অননুমোদিত দাহ্যপদার্থ স্পিরিটের মজুদ। যে কোন মূহুর্তে বড় দূর্ঘটনা ঘটার আশংকা রয়েছে। উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ এর উচিত এখনি এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া।