কাউখালীতে যমজ তিন সন্তান নিয়ে দিশেহারা হতদরিদ্র পরিবার


রুদ্রবাংলা প্রকাশের সময় : অক্টোবর ১২, ২০২৩, ০৭:৫৩ /
কাউখালীতে যমজ তিন সন্তান নিয়ে দিশেহারা হতদরিদ্র পরিবার

মাহবুবা নাজমিন কাউখালী (পিরোজপুর) প্রতিনিধিঃ পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার সয়না-রঘুনাথপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ বেতকা গ্রামের দিনমজুর নুর মোহাম্মদের কন্যা মিলি বেগমের ঘর আলোকিত করে একসঙ্গে জন্ম নিয়েছে তিনটি পুত্রসন্তান।

যমজ তিন ছেলে সন্তান হওয়ায় আকাশছোঁয়া খুশি হয়েছিলেন হতদরিদ্র পরিবারটি । কিন্তু কয়েকদিন যেতে না যেতেই তাদের সেই আনন্দের বন্যা দারিদ্রতার কারণে ভাটা পড়েছে। দিনমজুর পরিবারের যমজ তিন সন্তানের দুধ যোগাতেই নাভিশ্বাস উঠছে পরিবারটির। তারপর চিকিৎসার খরচ। এ নিয়ে চরম হতাশায় দিন কাটাচ্ছে পরিবারটি। সন্তানদের বাঁচিয়ে রাখতে সমাজের বিত্তবানদের সাহায্য চান হতদরিদ্র ইউছুফ- মিলি দম্পতি।

জানা গেছে, গত ২ মে বরিশালের মেট্রপলিটন ক্লিনিকে সিজারিয়ানে একে একে তিনটি সুস্থ পুত্রসন্তানের জন্ম দেন উপজেলার দক্ষিণ বেতকা গ্রামের দিনমজুর নুর হোসেনের মেয়ে মিলি বেগম (২৮)। পরিবারে নতুন সদস্যের আগমনের খুশিতে আত্মহারা ইউছুফ- মিলি দম্পতি সন্তানদের নাম রাখেন ঈসা, মুছা ও ইয়াছিন। কিন্তু দিন গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে তাদের সে আনন্দ হতাশায় পরিনত হয়েছে। কারণ তিনটি শিশু সন্তানকে লালন-পালন করতে যে খরচ, তা তিনি রোজগারও করতে পারেন না। পাঁচ মাস বয়সী ওই তিন শিশুর লালন-পালন ও চিকিৎসা নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। এছাড়াও পাঁচ বছর বয়সী বায়েজিদ নামে আরো একটি পুত্রসন্তান রয়েছে তাদের।

স্থানীয়রা জানান, দক্ষিণ বেতকা গ্রামের হতদরিদ্র নুর হোসেন বছর ছয়েক আগে পটুয়াখালী জেলার বাউফল উপজেলার দিনমজুর ইউছুফের সঙ্গে তার বড় মেয়ে মিলির বিয়ে দেন। বিয়ের পর থেকে অধিকাংশ সময়ই মিলি তার দরিদ্র বাবার বাড়িতে বসবাস করে আসছে। তার স্বামী বাউফলে নিজ বাড়িতে থেকে দিনমজুরের কাজ করে মাঝেমধ্যে কিছু খরচের টাকা পাঠায়। এর বছর খানেক পর তাদের পরিবারে একটি পুত্র সন্তান জন্মগ্রহণ করে। এমনিতেই তিনজনের সংসারে অভাবের শেষ নেই। তার ওপর আরো তিনটি যমজ শিশুসন্তান নিয়ে দরিদ্র পরিবারটি এখন দিশেহারা। আশপাশের লোকজন যে যতটুকু পারছেন সহযোগিতা করেছেন, কিন্তু এভাবে কত দিন চলবে তাদের ? সরকার যদি পরিবারটিকে একটু সহযোগিতা করত তাহলে পরিবারটি বেঁচে যেত।গৃহবধূ মিলি বেগম বলেন, আল্লাহ আমার ঘরে ফুটফুটে তিনটি পুত্রসন্তান দিয়েছেন। এই তিনটি সন্তান জন্মের সময় ধারদেনা করে আমরা এখন খুব বিপদে আছি। এদের মুখের দিকে তাকালে ওদের খাবারের জন্য কষ্ট দিতে পারছি না। কিন্তু আমাদের সামর্থ্য নেই তাদের পরিপূর্ণ খাবারের ব্যবস্হা করার।তিন যমজ সন্তানের পিতা ইউছুফ জানান, যমজ তিন সন্তান লালন- পালনের জন্য প্রতিদিন প্রায় ৫০০ টাকার মতন লাগে। এর ওপর পাঁচ বছর বয়সী ছেলে সহ আমাদের নিজেদেরও তো পেট আছে। আমি দিনমজুরের কাজ করে প্রতিদিন ৫০০-৬০০ টাকা আয় করি। আবার সব সময় কাজও থাকেনা। যার কারণে প্রতিদিনই কারো না কারো কাছ থেকে ধারদেনা করে ওদের খাবার জোগাতে হয়। তিনি তার সন্তানদের বাঁচাতে সমাজের বিত্তবানদের সহায়তা চান।

সমাজ সেবক আব্দুল লতিফ খসরু বলেন, উপজেলার দক্ষিণ বেতকা গ্রামের দিনমজুর একটি পরিবার যমজ তিন সন্তানদের ভরণপোষণ নিয়ে কষ্টে আছে জানতে পেরে তাকে সহযোগিতার সিদ্ধান্ত নেই। তাই গত চার দিন আগে দরিদ্র মিলির বাবার বাড়িতে গিয়ে শিশুদের জন্য নগদ কিছু অর্থ, পোষাক ও খাবার দিয়ে আসি। সন্তানদের লালন-পালনে ভবিষ্যতেও ওই পরিবারকে সহযোগিতা করবো। তিনি সমাজের বিত্তবানদেরকে এ পরিবারের পাশে দাঁড়ানোরও আহ্বান জানান।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার স্বজল মোল্লা জানান, হতদরিদ্র পরিবারে জন্ম নেয়া যমজ তিন শিশু নিয়ে তার মা আমার কাছে আসলে আপাতত ব্যক্তিগত ভাবে বাচ্চাদের জন্য কিছু নগদ অর্থ দিয়েছি। এই শিশুদের জন্য সহায়তা করতে পেরে আমি আনন্দিত। এই শিশুরা যাতে সমাজের অন্য শিশুদের মতো সমান সুযোগ পেয়ে বড় হতে পারে, সেজন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেয়া হবে।