আবাদ চন্ডিপুরে জায়গা-জমি নিয়ে নুরুল আমিন দিং ও হাদী বাহিনি দ্বন্দ চরমে


রুদ্রবাংলা প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৩, ১৫:১৬ /
আবাদ চন্ডিপুরে জায়গা-জমি নিয়ে নুরুল আমিন দিং ও হাদী বাহিনি দ্বন্দ চরমে

সাইফুল ইসলাম (বাবু) শ্যামনগর প্রতিনিধিঃ

দলিল যার জমি তার সরকার এমন একটি নীতির প্রচলন করেছেন কিন্তু আবাদ চন্ডিপুরের হাদী বাহিনী এই নীতি অনুসরণ করতে নারাজ।

জবর-দখল এবং ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে বাইরের লোকজন নিয়ে জমি দখলপূর্বক ঘরবাড়ি ও পুকুর দখল নিয়ে অন্যের জমিকে নিজের জমি বলে দাবি করে বিভিন্ন মহলে মাওলা মোকাদ্দমা করে নিজেকে জাহির করেছেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, আলহাজ্ব আঃ হাদী একজন আদম ব্যবসায়ী তিনি দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষজন জোগাড় করে এবং বিভিন্ন চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে লোকজন বিদেশে পাঠিয়ে দেয়। সেই সূত্র ধরে তিনি এখন কোটি কোটি টাকার মালিক তার ঢাকা কল্যাণপুর সাতক্ষীরা শ্যামনগর ও আবাদ চন্ডিপুরে একাধিক বাড়িসহ টাকা সুদ খাটিয়ে একাধিক ব্যবসা পরিচালনা করে থাকেন।
এরই যের ধরে মোঃ নুরুল আমিন দিং এর ক্রয়কৃত ২৯ শতাংশ জমি জোরপূর্বক দখল নিয়ে তার নিজের পৈত্রিক জমি বলে বিভিন্ন আইন শৃঙ্খলা মহলে কেজকাম ও অভিযোগে লিপ্ত হয়েছেন।
মোঃ সাইদুল ইসলাম এর বড় ছেলে সাইফুল ইসলাম বাবু বলেন- আমার বাবা চাচার ক্রয়কৃত জমি আমরা দীর্ঘদিন যাবত পুকুর কাটিয়ে মাছ চাষ করে নিজেদের দখলে নিয়ে চাষাবাদ করে আসিতেছি হঠাৎ করে হাদী বাহিনি তার লোকজন নিয়ে সাতক্ষীরা থেকে এসে কোন বলা কথা না বলে পুকুর দখল নেওয়ার চেষ্টা করে আমরা বাঁধা দিলে আমাদেরকে মৃত্যুর হুমকি দেখায় আমরা অসহায় তাদের সামনে ভয়ে দাঁড়াতে পারি নাই।

নুরুল আমিন দিং এর কাগজ-পত্রের বর্ননা অনুযায়ী জানা যায়, শ্যামনগর থানাধীন আবাদচন্ডিপুর মৌজার সি এস ৪৯ নং খতিয়ানে ষোল আনায় ২৯.৩৮ একর জমির মালেক রায় হরেন্দ্র নাথ চৌধুরী মহাশয়ের অধীনস্ত প্রজা ময়জদ্দীন গাজী দিং দের খাজনা বাঁকী পড়লে মালেক সাতক্ষীরা ২য় মুনসেফ আদালতে ১৯৫২ সালে ১৪২৯ খাজনা মোকদ্দমা ও ১৯৫২ সালে ১১৩০ নং জারি মোকদ্দমা করিয়া ডিক্রি কৃত সম্পত্তি নিলামে বিক্রয় করিবার ঘোষনা করিলে ইং ৩১/০৩/৫৪ তারিখে নিলাম খরিদ করেন যথাক্রমে ১। নজরুল ইসলাম, পিং- অহেজদ্দিন, ২। মুজিবুর রহমান, ৩। হাবিবর রহমান, পিং- মোকছেদুর রহমান, ৪। সফিকুর রহমান, পিং- আঃ গফুর। পরবর্তীতে আর এস ৭২ নং খতিয়ান হয়।

পরবর্তীতে উক্ত ২৯.৩৮ একর জমি এস. এ ৬৭, ৬৮, ৯৮, ২৬৬, ২৮৫ ও ২৮৯ নং খতিয়ানে রেকর্ড হয়। তন্মধ্যে এস,এ ২৮৫ নং খতিয়ানে ২০.৮৫ একর জমি সি, এস মালিক ময়জদ্দিন দিং দের নামে হইলে উক্ত নিলাম খরিদ্দারগণ নিলাম বুনিয়াদে মিস- ৫৮৯/৭৮-৭৯ নং নামপত্তন কেসের মাধ্যমে নামপত্তন করিয়া ভোগদখল করেন।

নিলাম খরিদ্দার সফিকুর রহমান, পিং- আঃ গফুর (চার) আনা অংশে প্রাপ্য ৫.২৯ একর জমির মধ্য হইতে ইং ১৫/১১/৯৫ তারিখের ৪৬৯২ নং রেজিঃ কোবালা মুলে ৬৬ শতক জমি বাদী সৈয়েদুল ইসলাম, পিং- অহেজদ্দিন খরিদ করেন। উক্ত সফিকুর হইতে ইং ০৫/০৭/৯৫ তারিখের ২৯৬৮ নং রেজিঃ কোবালা মুলে ৬৬ শতক জমি আবু এহিয়া মোর্তুজা ও মাজিদা খানম খরিদ করেন এবং তাহাদের নিকট হইতে ইং ১৯/০১/২০০০ তারিখের ২২২ নং রেজিঃ কোবালা মুলে উক্ত ৬৬ শতক জমি বাদী ১। নুরুল আমিন, পিং- অহেজদ্দিন ও ২। কাদের, পিং- রুহুল আমিন খরিদ করেন এবং নিলাম খরিদ্দার মুজিবর রহমান, পিং- মোকছেদার রহমানের নিকট হইতে ইং ০৯/১১/০৯ তারিখের ৪৩২৭ নং রেজিষ্ট্রী কোবালা মুলে ৮৭ শতক জমি বাদী ১। সৈয়েদুল ও ২। নুরুল আমিন, পিং- অয়েজদ্দীন গাজী খরিদ করেন। এস,এ ২৮৫ নং খতিয়ান হইতে মোট ৬৬+৬৬+৮৭=২.১৯ একর জমি খরিদ করেন।

এস,এ ৬৭ খতিয়ানে মোট ৩.৬৬ একর জমির মধ্যে ষোল আনা অংশে মালিক থাকেন মোঃ আবুল গফুর, পিং- ময়জদ্দিন গাজী। তিনি মৃত্যু অন্তে ওয়ারেশ থাকে ১ম স্ত্রী ৭ পুত্র ও তিন কন্যা। পুত্র আব্দুর রহমানের নিকট হইতে ইং ১৭/০২/০২ তারিখে ১১৩৫ নং কোবালা মুলে ১৩ শতক, পুত্র ফজলু ও সাইফুর এর নিকট হতে ইং ০১/০৪/০১ তারিখে ১৯৮০ নং রেজিঃ কোবালা মুলে ৪৯ শতক ও পুত্র সিদ্দিকুর রহমানের নিকট হইতে ইং ২৯/১০/০১ তারিখের ৫৩৮৫ নং কোবালা মুলে ২৫ শতক সর্বমোট ৮৭ শতক জমি এস, এ ৬৭ নং খতিয়ান হইতে খরিদ করেন বাদী ১। সৈয়েদুল ও ২। নুরুল, পিং- অয়েজদ্দিন।
এস,এ ২৮৫ নং খতিয়ানে ২.১৯ ও এস,এ ৬৭ নং খতিয়ানে ৮৭। সর্বমোট ৩.০৬ একর জমির মধ্য হইতে হামিদ ও মামুন এর নিকট ৫৮ শতক জমি বিক্রি বাদে অবশিষ্ট ২.৪৮ একর এর স্থলে বর্তমান জরীপে ডিপি ১৬৪৭ খতিয়ানে ২.১৯ একর জমি রেকর্ড হইয়াছে কম আছে ২৯ শতক।

উক্ত দখলিয় জমির মধ্যে নিঃসত্তবান বিবাদী জোর পূর্বক দখল করায় উক্ত বিরোধ ।

বিবাদী কিভাবে নিসত্ত্ববান হইয়াছেন তাহার বর্ননাঃ- বিবাদী গত ইংরেজি২৬/১২/২০ তারিখে শুনানি কালে তাহার কাগজের বর্ননা দিতে গিয়ে বলেন যে, সি, এস রেকর্ডয় মালিক মুজদ্দিন গাজীর পুত্র অর্থাৎ বিবাদীর পিতা আঃ সবুর গাজী ইং ০৪/০৩/৪৭ তারিখের ৭০৫ নং পাট্টা মুলে ১০০ একর জমি বিক্রয় করেন সাতুল্য গাজীর নিকট এবং বলেন যে, উক্ত জমি তাহার পিতা দলিলের পিঠে উসুল দিয়া ১২/০৪/৪৮ তারিখে ফেরত নেওয়ার সত্ত্বেও সাতুল্য গাজী উক্ত জমি পুনরায় আবু ইউসুফের নিকট ১২/০৬/৪৮ তারিখে ৩৬৭০ নং রেজিঃ কোবালা মুলে উক্ত ১০০ একর জমি বিক্রয় করিয়া দিলে তাহার নামে এস,এ ৯৮ নং খতিয়ানে রেকর্ড হয় এবং তাহাদের ভোগদখল অনুযায়ী বর্তমান জরীপে ডিপি ২১৫ নং খতিয়ানে তাহার ওয়ারেশ পুত্রদের নামে রেকর্ড হইয়াছে।

পরবর্তীতে দলিলের পিঠে ১২/০৪/৪৮ তারিখে ফেরৎ নিয়ে এস,এ রেকর্ড না হওয়ায় উক্ত এস,এ ৯৮ নং খতিয়ান ভ্রমাত্মক ভাবে হইয়াছে মর্মে উক্ত খতিয়ানের বিরুদ্ধে দেওয়ানি ১৩০/৯২ নং মোকদ্দমা করিয়াছিলেন যাহাতে তাহার বিপক্ষে রায় হওয়া এখন বর্তমানে বিজ্ঞ মহামান্য সুপ্রিম কোর্টে লিভ-টু-আপিল ২৭০/০৬ নং মোকদ্দমা বিচারাধীন আছে। সেহেতু উক্ত খতিয়ানের জমিতে তাহার কোন দখল নাই এবং শত্ত প্রতিষ্ঠিত হয় নাই।)

অপরদিকে অন্যান্য জায়গা শুনানি কালে যাহা বলেছেন তাহা নিম্নরূপঃ-

এস.এ ৬৮ নং খতিয়ানে মোট ১.৩৯ একর জমির মালিক ছিলেন তাহার পিতা আব্দুস সবুর। উক্ত আব্দুস সবুরের নিকট হইতে ইং ১৭/১০/৮৫ তারিখের ৯১৯৮ দানপত্র মুলে ১.০৫ একর জমির মালিকানা দাবী করেন এবং উক্ত দলিলটি যে ন্বিসত্ত্ব দলিল ছিল তাহার প্রমান নিম্নরুপ 1

বিবাদীর পিতা এস, এ ৬৮ নং খতিয়ানে প্রাপ্য ১.৩৯ একর জমির মধ্য হইতে ০৩ শতক জমি বহুপূর্বে মসজিদ বরাবর দান করিয়া দেওয়ার পর অবশিষ্ট ১.৩৬ একর জমি বিবাদী নিকট দানপত্র দলিল করায় পূর্বেই আব্দুস সবুর এর আপন ভাই আব্দুস সাত্তার এর নিকট বিগত ইং ০২/০৮/৬১ তারিখের ৫৪৮১ নং রেজিঃ কোবালা মুলে ১.৩৬ একর জমি বিক্রয় করিয়া নিস্বত্ববান হইয়াছেন। আব্দুস সাত্তার উক্ত জমি বর্তমান জরীপে ডিপি ২৪১ নং খতিয়ানে দখল অনুযায়ী রেকর্ড করিয়াছেন।

বিবাদী আব্দুল হাদি সাহেব ছাত্তারের দলিল জাল প্রমানের জন্য সি, আর, পি ১৭/১১ নং কেস করলে তাহা তদন্ত করিয়া কানুনগো সাহেব প্রতিবেদনে যে উক্ত দলিলের সার্টিফাইড কপির সহিত অর্জিনাল দলিলের মিল থাকায় দলিলটি জাল তঞ্চকী নহে। তাহা ছাড়া তিনি একই বিষয় নিয়ে দেওয়ানি আদালতের দেং ৩১/১১ নং একটা মোকদ্দমা করিয়াছেন যাহা চলমান। সেহেতু বিবাদী আব্দুল হাদি সাহেব এস,এ ৯৮ বা ৬৮ নং কোন খতিয়ানেই তাহার মালিকানা প্রমান করিতে পারেন নাই।