কয়রায় পাউবোর বেঁড়িবাঁধে ভাঙ্গন আতঙ্কে এলাকাবাসী


রুদ্রবাংলা প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৩, ২২:৪৩ /
কয়রায় পাউবোর বেঁড়িবাঁধে ভাঙ্গন আতঙ্কে এলাকাবাসী

কয়রা খুলনা প্রতিনিধিঃ

কয়রা উপজেলা সদর ইউনিয়নের বেড়ী বাঁধে মারাত্মক ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। ভাঙ্গনের তীব্রতায় বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি প্রবেশের আশঙ্কায় এলাকাবাসীর মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড খুলনা ২ এর অধীন কয়রা উপজেলার ১৩-১৪/ ২ নং পোল্ডারের হরিণখোলা সলুইজ গেট সংলগ্ন দক্ষিণ পার্শ্বে ভেরিবাঁধের প্রায় ২০০ ফুট স্থান জুড়ে মারাত্মক ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে ২০ ফুট চরসহ বেঁড়ী বাঁধের প্রায় ৩০ শতাংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। স্থানীয়রা জানান ১৭ সেপ্টেম্বর ভোর সকালে কপোতাক্ষ নদের ভাটার টানে ভাঙ্গন শুরু হয়। খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক কয়রা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এস এম শফিকুল ইসলাম ও কয়রা সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এস এম বাহারুল ইসলাম ভাঙ্গন কবলিত স্থান পরিদর্শন করেছেন। ভাঙ্গন কবলিত স্থানের বাসিন্দা দুখিরাম মন্ডল বলেন, সন্ধ্যার পরপরই ভাটার টানে ভাঙ্গনের তীব্রতা বহু গুণ বেড়ে গেছে, চোখের পলকে চর সহ বাঁধের প্রায় ৩০ ভাগ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে, ভাঙ্গন অব্যাহত আছে। এভাবে চলতে থাকলে কি হবে বলা যাচ্ছে না।

ভাঙ্গন কবলিত বাসিন্দা নিশিকান্ত মন্ডল সহ স্থানীয়রা জানান,এর আগে ঘূর্ণিঝড় আমপানের আঘাতে একই স্থান ভেঙ্গে তাদের বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছিল এছাড়া কয়রা সদরসহ ছয়টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছিল, ধ্বংস হয়েছিল সহস্রাধিক ঘরবাড়ি শত শত মৎস্যঘের,কাঁচাপাকা সড়ক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সহ কোটি কোটি টাকার সম্পদ বিনষ্ট হয়েছিল। পরবর্তীতে পাউবো কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধায়নে টেকসই বেড়ি বাঁধ নির্মাণ করলে জনমনে স্বস্তি ফিরে আসে সেই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই মাত্র দুই বছরের ব্যবধানে একই স্থানের প্রায় পাঁচশতাধিক জিও ব্যাগ সহ টেকসই বেড়িবাধের প্রায় ২০০ ফুট স্থান নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। সে কারণে মানুষ বেশি আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। এলাকাবাসী অতি দ্রুত ভাঙ্গন কবলিত স্থানে জিও ব্যাগ ডাম্পিং সহ বাধ মেরামতের দাবি জানিয়েছেন।
কয়রা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এস এম শফিকুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক কবলিত স্থানে গিয়েছিলাম,বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়েছে। একই কথা বলেন, কয়রা সদর ইউপি চেয়ারম্যান এস এম বাহারুল ইসলাম।
আমাদী পাউবো উপ বিভাগের সেকশন কর্মকর্তা সোলাইমান হোসেন বলেন, এ বিষয়ে আমাদের উদ্ধতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ খবর লেখা পর্যন্ত ভাটার টানে ভাঙ্গন কবলিত স্থানের বাঁধে ধ্বস অব্যাহত ছিল। ##
১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৩