প্রাথমিক শিক্ষার মানন্নোয়নে ‘শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম


রুদ্রবাংলা প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৩, ০৭:৩৬ /
প্রাথমিক শিক্ষার মানন্নোয়নে ‘শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম

প্রাথমিক শিক্ষা হচ্ছে একটি দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার মূল ভিত্তি। প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা যত বাস্তবমুখী এবং গুণগতমানের হবে একটি দেশ তত বেশি সফল প্রজন্ম সরবরাহ করতে পারবে। গত এক দশকে বাংলাদেশে প্রাথমিক স্তরে ছেলে-মেয়ে ভর্তির হার উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং শিক্ষার গুণগতমান ও ফলাফলের দিকেও গুরত্ব দেয়া হয়েছে।

মেধাবী এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরীতে মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার প্রতিনিয়ত পাঠ্যক্রম হালনাগাদকরণ, সিলেবাস ও পুস্তকের বিষয়বস্তু উন্নতকরণ, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ জোরালো করণসহ বিভিন্ন সৃজনশীল উদ্ভাবনী ধারণার মাধ্যমে শিক্ষা দান কার্যক্রম গ্রহণ করেছে।দক্ষ ও শক্তিশালী মানবসম্পদ তৈরিতে আমাদের শিশুদের ছোটবেলা থেকেই মানসিকভাবে দক্ষ ও শক্তিশালী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। যে শিশুর ছোটবেলা থেকে আত্ম উন্নয়ন কৌশল এবং মানসিক দক্ষতার উন্নয়ন ঘটবে, সে শিশুটি একদিন দেশের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে উঠবে।

বর্তমান বিশ্বে যে দেশ যত বেশি দক্ষ মানবস্পদ গড়ে তুলেছে, সে দেশ তত উন্নত। তাই প্রতিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য সেবার প্রতি খেয়াল রেখে যথোপযুক্ত কার্যক্রম গ্রহণ করা যেতে পারে। প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের জন্য আত্ম উন্নয়ন ও মানসিক দক্ষতা উন্নয়নে নেওয়া যেতে পারে কার্যকরী পদক্ষেপ। গ্রহণ করা যেতে পারে শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য সেবা কাযক্রম।লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যশিশুরা সংবেদনশীল, তারা তাদের চারপাশে থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে। সারাবিশ্বে শিশুর মানসিক স্বাস্থ্য কে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে দেখা হয়। এক সমীক্ষায় দেখা যায়, সারাবিশ্বে ৩.১% শিশু মানসিক অস্থিরতায় ভোগে, যাদের বয়স ১০ এর নিচে। জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য সংস্থা ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এক জাতীয় পর্যায়ে জরিপে উঠে এসেছে শুধু মাত্র ঢাকায় ১৮.০৪% শিশুর মানসিক সমস্যা রয়েছে।

একটি শিশুর মানসিক বৃদ্ধি ও দক্ষতা অর্জনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হতে পারে শিশুর প্রাথমিক শিক্ষা পর্যায়ে মানসিক স্বাস্থ্য সেবা।শিশুদের শ্রেণী পাঠ্য শিক্ষার পাশাপাশি সবচেয়ে জরুরি মানসিক দক্ষতা উন্নয়ন এবং মানসিক বিকাশ। শিশুর মানসিক দক্ষতা বৃদ্ধিতে বর্ণমালা, ভাষা, সংখ্যা, গণনার পাশাপাশি খেলাধূলা, ব্রেইন গেইম, ধাঁধাঁ, যুক্তিপূর্ণ চিন্তা ভাবনার প্রসার, চিত্রকর্ম, ভিজ্যুয়াল আর্ট, কারুশিল্প, সঙ্গীত চর্চা, দলগত সামাজিক চলাফেরা, সংবেদনশীলতা, ভালো আচরণ, সৌজন্যতা, নীতিশাস্ত্র, ধর্মীয় অনুসরণ ও চর্চা, ব্যক্তিগত আচরণ, পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা, দলগত কাজ ও পারস্পারিক সহযোগিতা, নৈতিকতা বিকাশ ও সামাজিক শিক্ষা সমন্বয়, সাংস্কৃতিক বিকাশ, আত্ম উন্নয়ন এবং মানসিক দক্ষতা উন্নয়ন, দৃষ্টিভঙ্গিতে প্রভাব বিস্তার, চারপাশের পরিবেশ থেকে কি শিখছে তা প্রভাবিত করা, মানসিকভাবে কতটা সতর্ক এইসকল বিষয়েও চর্চা অত্যন্ত জরুরি।

আজকের শিশুরাই আগামীর বাংলাদেশ, তাই প্রাথমিক শিক্ষা থেকে শিশুর মানসিক বৃদ্ধি ও স্বাস্থ্য নিয়ে চিন্তা ভাবনা করা জরুরি।শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যসেবা’কার্যক্রম বাস্তবায়ন কৌশলঃশিশুর মানসিক বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন কৌশলগত পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে। শিশুদের মানসিক দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে জানা অত্যন্ত জরুরি। তাদের মানসিক দৃষ্টিভঙ্গি আমাদের দেশের মূলনীতি প্রভাবিত করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। শিশুদের মাঝে দৃঢ়তা শিক্ষা দিতে হবে। আজকের শিশু ই আগামীর প্রবক্তা, তাই তারা যেন মানসিকভাবে অত্যন্ত দৃঢ় হয়। নৈতিকতা শিক্ষা অত্যন্ত জুররি। নৈতিকতা চর্চা শিশকাল থেকেই বৃদ্ধি করতে হবে। তারা যেন নিজেদের মধ্যে নৈতিকতা চর্চা করতে পারে এমন পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে। তীক্ষ্ণ বৃদ্ধিচর্চা, ভালো আচরণ, মানসিক অস্থিরতা দূরীকরণ, পারস্পারিক মিথস্ক্রিয়া, মিথ্যা পরিহারকরণ, বিভিন্ন বিষয়ে দক্ষতা উন্নয়ন, বৃদ্ধিভিত্তিক চর্চার জন্য শিশুদের জন্য পজিটিভ সিনেমা তৈরি ও প্রদর্শন, বাস্তবিক বৈজ্ঞানিক ধারণা প্রদান, বিজ্ঞান চর্চার সুযোগ, ব্রেইনগেইম চর্চার জন্য শিশুদের জন্য তাদের উপযোগী গেইম তৈরি করা যেতে পারে। চিন্তা চেতনায় দূরদর্শিতা উন্নয়নের জন্য শিশুদের মাঝে বু্দ্ধিভিত্তিক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা যেতে পারে। শিশুদের মাঝে মানসিক অস্থিরতা বিরাজ করলে তা চিন্হিত করে তা নিরসনে পদক্ষেপ নিতে হবে এবং ভবিষতে এমন পরিস্থিতিতে তাদের করনীয় বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিতে হবে। শিশুরা যেন ধর্মীয় নৈতিক শিক্ষায় গড়ে উঠে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। শিশুরা যেন যেকোনো পরিস্থিতিতে যেকোনো চ্যালেন্জ গ্রহণ করতে পারে মানসিকভাবে এমন ভাবে গড়ে তুলতে হবে।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সাপ্তাহিক ধাঁধাঁ প্রতিযোগিতা বা ব্রেইনগেইম এর আয়োজন করা যেতে পারে। কারুশিল্পের চর্চা, চিত্রকর্মে নিজের চিন্তাভাবনার প্রসার গঠানোর জন্য প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সাপ্তাহিক বা মাসিক কর্মশালার আয়োজন করা যেতে পারে। শিশুরা সংবেদশীল,তাই তাদের সামাজিক সংবেদনশীলতা শিক্ষা অত্যন্ত জরুরি, তারা কি শিখতে আগ্রহী, তাদের কোন কোন বিষয়ে দক্ষতা আছে তা চিহ্নিত করে বিকাশের জন্য পদক্ষেপ নিতে হবে। আধুনিক বিশ্বে জাতির সামগ্রিক উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় উদ্ভাবনী উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত জরুরী। শিশুর মানসিক স্বাস্থ্য সেবা কার্যক্রমে ফলপ্রসূ শিশুরাই হবে আগামী দিনের উন্নত, সমৃদ্ধ, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলার সত্যিকারের রূপকার।