কয়রায় রাবেয়ার খপ্পরে পড়ে ভিটামাটি ছাড়া একাধিক পরিবার মিথ্যা মামলার ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস পায় না।


রুদ্রবাংলা প্রকাশের সময় : অগাস্ট ৪, ২০২৩, ১৭:০৮ /
কয়রায় রাবেয়ার খপ্পরে পড়ে ভিটামাটি ছাড়া একাধিক পরিবার মিথ্যা মামলার ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস পায় না।

রাকিব কয়রা প্রতিনিধিঃ

খুলনার কয়রা উপজেলার কয়রা সদর ইউনিয়নের ২নং কয়রা গ্রামের শেহের আলী ঢালীর কন্যা রাবেয়ার খপ্পরে পড়ে ৪টি পরিবার এখন ভিটে মাটি ছাড়া।

সরে জমিনে ঘুরে জানা গেছে, উক্ত রাবেয়া প্রথম জীবনে প্রতিবেশী মিন্টু নামের একটি ছেলের সাথে গভীর রাতে আপত্তিকর অবস্থায় পরিবার ও গ্রামবাসীর হাতে ধরা খাইলে কয়রা উপজেলা প্রেস ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মোস্তফা শফিকুল ইসলামসহ গ্রামবাসী সেখানে উপস্থিত থেকে তাদেরকে বিয়ে দেয়। একটি ছেলে সন্তান হওয়ার পর রাবেয়ার নির্যাতন ও অত্যাচারে মিন্টু গ্রাম ছেড়ে রাঙ্গামাটি চলে যায়। আজও সে বাড়ী ফিরতে পারি নাই। এরপর স্থানীয় এক প্রাইমারী স্কুলের প্রধান শিক্ষক মাহফুজকে প্রেমের ফাদে ফেলে তার নিকট হইতে প্রায় ৬/৭ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পরও রেহাই না পেয়ে উক্ত প্রধান শিক্ষক চাকুরী ছেড়ে অজানা স্থানে দীর্ঘ দেড় বছর আত্ম গোপনে আছে। এরপর ২নং গ্রামের মসজিদের সেক্রেটারী বিশিষ্ট ঘের ব্যবসায়ী রুহুল আমিনের ছেলে-মেয়ে বিয়ের যোগ্য হওয়া শর্তেও তাকে প্রেমের ফাদে ফেলে বিভিন্ন ভাবে আপত্তিকর ছবি তুলে তাকে ব্লাক মেইলের মাধ্যমে বিয়ে করে।

এরপর একের পর এক ব্লাক মেইলের মাধ্যমে উক্ত রুহুল আমিনের নিকট হইতে প্রায় ৯/১০ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়ে তাকে দেশ ছেড়ে ভারতে যেতে বাধ্য করে। সে এখন পরিবার পরিজন নিয়ে ভারতে দিন মজুরীর কাজ করে। হত দরিদ্র পরিবারের অশিক্ষিত মেয়ে রাবেয়ার চারিত্রিক ব্যাপারে বার বার বিভিন্ন জনের সাথে ধরা খাইতে থাকলে তার পরিবার তাকে বাড়ী থেকে তাড়িয়ে দিলে সে কয়রা সদরের একটি বিলাস বহুল বাসা ভাড়া নিয়া ধনির দুলালীর মত চলাফেরা, পোষাক পরিচ্ছেদ, বাজার সওগা করে চলে। গত আনুঃ ৬ মাস পূর্বে তার পিতা ভিটায় একটি ঘর তৈরি করার জন্য স্থানীয় রাজ মিস্ত্রী শফিকুল ইসলামকে কাজ দেয়। শফিকুল তার বাড়ীতে কাজ করা অবস্থায় রাবেয়া তার সাথে প্রেমের অভিনয়ে ফাসিয়ে ফেলে।

এক পর্যায় রাবেয়ার নাম্পনিক টাইলস দিয়ে তৈরি বিল্ডিং এর কাজ শেষ হলে শফিকুল তার নিকট কিছু টাকা পায়। উক্ত টাকা চাইতে গেলে পূর্ব পরিকল্পিত প্রেমের ফাদে ফেলে আপত্তিকর অবস্থার ছবি তাকে দেখিয়ে ব্লাক মেইল করতে থাকে। এক পর্যায়ে স্থানীয় কোহিনুর মেম্বারের নিকট বিচার দিলে তিনি শোনা জানার পর এই বিচার সে করতে পারবে না বলে জানিয়ে দেয়। তখন রাবেয়া কোহিনুর মেম্বারে উপরও চড়াও হয়। ঐ সময় মেম্বারের বাড়ীর পাশে কয়রা কারিগরি ইন্সটিটিউটের পরিচালকের বাসায় শফিকুল কাজ করতো। রাবেয়া উক্ত পরিচালকের নিকট হাজির হয়ে শফিকুলের সহিত বিবাহ করিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেয়। তখন পরিচালক বলেন যেহেতু শফিকুলের স্ত্রী ও কন্যা আছে তাই আমার দ্বারা এই কাজ সম্ভব নয়।

তখন রাবেয়া পরিচালককে বলে যে তাহলে আমার ক্ষতি পূরণ বাবদ ১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা দিতে বলেন সব মিটিয়ে নিবো। কিন্তু পরিচালক তার কথায় অপরাগতা স্বীকার করলে রাবেয়া কয়রা থানায় শফিকুলকে ১নং আসামী করে এবং কোহিনুর মেম্বারকে ২নং আসামী এবং উক্ত পরিচালক রকিব হাসানকে ৩নং আসামী করে একটি ধর্ষণ মামলা করেন। মামলায় শফিকুল ধর্ষণ করেছে, কোহিনুর মেম্বার রাবেয়াকে ধরে রেখেছে এবং শিক্ষক রকিব হাসান ভিডিও ধারন করেছে বলে রাবেয়া দাবী করে। কিন্তু কয়রা থানার চৌকস অফিসার ইনচার্জ মোঃ মিজানুর রহমান ও এসআই বাবুন তদন্ত করে রাবেয়ার নামে ইতিপূর্বে এ ধরণের বহু মিথ্যা অভিযোগকারী হিসাবে প্রমাণ পায় এবং বর্তমান কেসের আবেদনও সম্পূর্ণ মিথ্যা প্রমাণ পেয়ে মামলা রেকর্ড করে নাই। দীর্ঘ ১৫ দিন যাবৎ উক্ত ভুয়া মিথ্যা মামলা রেকর্ড করার জন্য রাবেয়া স্থানীয় কিছু নেতাদের সাথে নিয়ে থানায় সুপারিশ করাচ্ছে।

সে নিজেকে যুব মহিলালীগের নেত্রী দাবী করে চাপাবাজী করে থাকে। সে একজন বড় মাপের সুদখোর হিসাবে পরিচিত। বাজারের অনেক ব্যবসায়ীরা তার থেকে সুদের টাকা নিয়ে ব্যবসা করে। রাবেয়ার ভাড়া বাসায় দিন-রাত সব সময় নতুন নতুন পুরুষের আসা যাওয়া দেখেও এলাকাবাসী মিথ্যা মামলার ভয়ে প্রতিবাদ করতে সাহস পায় না। কয়রায় কিছু রাজনৈতিক নেতাদের ছত্র ছায়ায় রাবেয়া তার দেহ ব্যবসা, প্রেমের ফাদে ফেলে, আপত্তিকর ছবি তুলে ব্লাক মেইল, চড়া সুদের কারবার ইত্যাদি পন্থায় আয় করে থাকে। রাবেয়ার পিতা তার মায়ের ৮নং স্বামী। রাবেয়ার পিতারও বর্তমানে ৩টি বৌ উপস্থিত আছে। রাবেয়ার ভাই টিউবওয়েল মিস্ত্রি হাসানের ২টি বউ একই সাথে ঘর করছে। রাবেয়া অপন বোন রাজিয়া ৩টি স্বামী পরিবর্তন করে বর্তমানে ঢাকার একটি গার্মেন্টস কর্মীর সাথে ধরা খেয়ে বিয়ে করে সেখানে আছে। কয়রা উপজেলা সদরসহ সম ক্যারায় রাবেয়া আতংকে সকল নারী পুরুষ দিন কাটাচ্ছে।

কখন কাকে সে মিথ্যা জালে ফাসিয়ে মামলা করে সেই ভয়ে কেউ মুখ খোলে না। চাপা কষ্টে কয়রাবাসীর ঘুম হারাম হয়ে গেছে। শফিকুল রাজ মিস্ত্রী উক্ত রাবেয়ার কেসের ভয়ে ২ মাসের অধিক গ্রাম ছাড়া। তার স্ত্রী সালমা খাতুন রাবেয়ার অত্যাচারে বিরুদ্ধে প্রতিকার চেয়ে বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করেছে। প্রথমে স্থানীয় মেম্বার ও পরে ইউনিয়ন চেয়ারম্যান শফিকুল রাজ মিস্ত্রির বিয়ষটি নিয়ে বিচার সালিশ করিলেও রাবেয়া তা প্রত্যাখান করেছে। সে অজ্ঞাত শক্তির কারণে সে কাউকে তোয়াক্কা করে না। এলাকার সকল শ্রেণির মানুষ উক্ত রাবেয়া অত্যাচার থেকে মুক্তি পেতে চায় ।