হিরো আলমের ওপর হামলাকারী ৫ জনের বাড়ি একই জেলায়


রুদ্রবাংলা প্রকাশের সময় : জুলাই ১৯, ২০২৩, ১৭:৫৬ /
হিরো আলমের ওপর হামলাকারী ৫ জনের বাড়ি একই জেলায়

ঢাকা-১৭ আসনের উপনির্বাচনে ভোট গ্রহণের দিনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলমের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা হয়েছে। মামলায় এখন পর্যন্ত সাতজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। বনানী থানা পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশ তাঁদের গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তার সাত আসামির নাম ও পরিচয় প্রকাশ করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া বিভাগ। 

গ্রেপ্তার আসামিরা হলেন—১. গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী থানার ছানোয়ার কাজী (২৮), তিনি বর্তমানে থাকেন মহাখালী ওয়্যারলেস গেট এলাকায়। ২. গোপালগঞ্জের মোকসেদপুর থানার বিপ্লব হোসেন (৩১), তাঁর বর্তমান ঠিকানা মিরপুর-১১। ৩. গোপালগঞ্জের মোকসেদপুর থানার মাহমুদুল হাসান মেহেদী (২৭), তাঁর বর্তমান ঠিকানা বনানী। ৪. গোপালগঞ্জ সদরের মোজাহিদ খান (২৭), তাঁর বর্তমান ঠিকানা তেজগাঁও পূর্ব নাখালপাড়া। ৫. কুমিল্লার হোমনা থানার মো. আশিক সরকার (২৪), তাঁর বর্তমান ঠিকানা কড়াইল মোশারফ বাজার, রফিক মিয়ার বাড়ি। ৬. শরীয়তপুরের জাজিরা থানার মো. হৃদয় শেখ (২৪), তাঁর বর্তমান ঠিকানা কড়াইল মোশারফ বাজার, আবুল কাসেম মিয়ার বাড়ি। ৭. গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী থানার সোহেল মোল্লা (২৫), তাঁর বর্তমান ঠিকানা খিলক্ষেতের মধ্যপাড়া।

গত মঙ্গলবার রাতে ডিএমপির মিডিয়া বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার নিয়তি রায় এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ‘হিরো আলমের ওপর হামলার ঘটনায় রাজধানীর বনানী থানায় মামলা হয়েছে। অজ্ঞাতপরিচয় ১৫/২০ জনকে আসামি করে মামলাটি করেছেন হিরো আলমের ব্যক্তিগত সহকারী মো. সুজন রহমান শুভ (২৫)। মামলায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলায় সাতজনের মধ্যে দুজনের তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। বাকি পাঁচজনকে আদালত কারাগারে পাঠিয়েছেন।’ এর আগে আজ দুপুরে মামলাটি গ্রহণ করে বনানী থানা। মামলার এজাহারে বাদী অভিযোগ করেন, গতকাল ১৭ জুলাই ঢাকা-১৭ আসনের উপনির্বাচনে সকাল ৮টা থেকে ভোট গ্রহণ শুরু হলে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আশরাফুল হোসেন আলম এবং তাঁর ব্যক্তিগত সহকারী পরান সরকারসহ প্রতিনিধি রাজীব খন্দকার, মো. রনি, মো. আল-আমিনসহ অনেকে বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শন করতে থাকেন।

বেলা সাড়ে ৩টায় বনানী বিদ্যানিকেতন স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে পরিদর্শনে যাই। হিরো আলমসহ আমরা পাঁচ-ছয়জন বনানী বিদ্যানিকেতন ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন শেষে বেলা ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে কেন্দ্র থেকে বের হওয়ার সময় অজ্ঞাতনামা ১৫-২০ জন আমাদের গতিরোধ করে গালিগালাজ করতে থাকে।’ ‘একপর্যায়ে বিবাদীরা হত্যার উদ্দেশ্যে প্রার্থী হিরো আলমকে আক্রমণ করে এলোপাতাড়ি কিলঘুষি মারতে থাকে। একপর্যায়ে একজন হত্যার উদ্দেশ্যে দুই হাতে হিরো আলমের কলার চেপে ধরে শ্বাসরোধ করার চেষ্টা করে এবং অপর একজন তলপেটে লাথি মারলে হিরো আলম রাস্তায় পড়ে যান।’

‘তখন অন্য বিবাদীরা হিরো আলমকে এলোপাতাড়ি কিলঘুষি ও লাথি মেরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করে এবং টানাহেঁচড়া করে। ওই সময়ে আমি এবং অপর ব্যক্তিগত সহকারী পরান সরকার মিলে হিরো আলমকে হামলাকারীদের হাত থেকে রক্ষার জন্য এগিয়ে গেলে তারা আমাকেসহ ব্যক্তিগত সহকারী পরান সরকার, রাজীব খন্দকার, রনি ও আল-আমিনকে মারধর করে জখম করে। এরপর কেন্দ্রে ডিউটিরত পুলিশ এবং একতারা প্রতীকের সমর্থনকারীদের সহায়তায় হিরো আলমসহ আমরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করি।

’পরে হিরো আলমকে রামপুরার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরে সংবাদ সম্মেলন করেন হিরো আলম। সেখানে তিনি এ সরকারের অধীনে আর কোনো নির্বাচন করবেন না বলে জানান। হিরো আলমের ওপর হামলার ঘটনায় সাতজনকে গ্রেপ্তার করার কথা আজ দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। ডিএমপির গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ এ সংবাদ সম্মেলন করেন।