চীনে শুরুতেই হোঁচট খেলেন টম ক্রুজ


রুদ্রবাংলা প্রকাশের সময় : জুলাই ১৮, ২০২৩, ০৪:২১ /
চীনে শুরুতেই হোঁচট খেলেন টম ক্রুজ

হলিউড সিনেমার বড় বাজার চীন। সেখানে বরাবরই দাপট দেখিয়েছে ‘মিশন: ইমপসিবল’ ফ্র্যাঞ্চাইজি সিরিজগুলো। সেই বাজারেই এবার মুক্তির পরে তৃতীয় অবস্থায় রয়েছে সিনেমাটির নতুন কিস্তি ‘মিশন: ইমপসিবল-ডেড রেকনিং পার্ট ওয়ান’। এ বছর হলিউডে বেশির ভাগ বড় প্রযোজনার সিনেমাগুলো যেখানে সাড়া জাগিয়েছে, সেখানে কেন পিছিয়ে টম ক্রুজ। সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন ভক্তরা।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সাময়িকী ভ্যারাইটি জানিয়েছে, এর কারণ চীনের দুই সিনেমা মুক্তির পর থেকেই বক্স অফিসে রেকর্ড গড়ছে। এক সপ্তাহ আগে চীনে মুক্তি পাওয়া চীনা সিনেমা ‘নেভার সে নেভার’ নিয়ে দর্শকের তুমুল আগ্রহ এখনো। সিনেমাটি মুক্তির ৪ দিনের মাথায় ১২১ মিলিয়ন ডলার আয় করেছে। এখনো এই সিনেমা চীনের বাজারে দাপট দেখাচ্ছে। এটি পরিচালনা করেছেন ওয়াং বাউচ্যাং। নিয়ম ভাঙা এক বক্সারকে নিয়ে সিনেমার গল্প। চীনের দুর্গম এলাকায় এতিমদের মার্শাল আর্ট শেখাতে গিয়ে বিতর্কের মুখে পড়ে সে। সিনেমাটির ১১ দিনে সব মিলিয়ে আয় ২১২ মিলিয়ন ডলার।

অন্যদিকে চীনের দ্বিতীয় সিনেমা ‘চ্যাং আন’। এটি সাড়া জাগালেও ‘নেভার সে নেভার’ সিনেমা থেকে কিছুটা পিছিয়ে ছিল। গত সপ্তাহে নিজেদের এই সিনেমাকে জায়গা করে দিতে ‘নেভার সে নেভার’ হলসংখ্যা কমিয়েছে। দেশের সিনেমাকে এভাবে ছাড় দেওয়ায় সিনেমাটি এ সপ্তাহেও আলোচনায় রয়েছে। সিনেমার বর্তমান আয় ৯৬.১ মিলিয়ন ডলার। এই আয় মাত্র ৯ দিনের। সিনেমায় উঠে এসেছে চীনের ঐতিহাসিক কিছু চরিত্র। অ্যানিমেশন এই চরিত্রগুলো চীনের দর্শকেরা পছন্দ করেছেন।

চীনের বক্স অফিসে বেশির ভাগ সময় হলিউডের সিনেমাগুলোই এগিয়ে থাকে। কিন্তু এবার ‘মিশন: ইমপসিবল-ডেড রেকনিং পার্ট ওয়ান’ সেই অর্থে বক্স অফিসে সাফল্য দেখাতে পারেনি। এর আগে অবশ্য মিশন: ইমপসিবল সিরিজকে এভাবে একসঙ্গে চীনের জনপ্রিয় দুই সিনেমাকে মোকাবিলা করতে হয়নি। যে কারণে ‘মিশন: ইমপসিবল-ডেড রেকনিং পার্ট ওয়ান’ মুক্তির পর আয় করেছে মাত্র ২৫.৯ মিলিয়ন। তবে এই আয় সামনে বাড়তে পারে।

চীনের প্রথম অবস্থানে থাকা ‘নেভার সে নেভার’ ও দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা অ্যানিমেশন সিনেমা ‘চ্যাং আন’ একই সময়ে আয় করেছে ৪৬.১ ও ৪৩.৯ মিলিয়ন ডলার। হলিউডের সিনেমাগুলোর মধ্যে এ বছর ‘গার্ডিয়ানস অব দ্য গ্যালাক্সি ভলিউম ৩’ মুক্তির পরই আয় করেছিল ২৮ মিলিয়ন ডলার। ‘ফাস্ট-এক্স’, ‘ট্রান্সফরমারস-রাইজ অব দ্য বিস্টস’ আয় করেছিল ৫১.১ ও ৩৮.৯ মিলিয়ন ডলার।

করোনার পরে আবার নতুন করে এগিয়ে যাচ্ছে চীনের চলচ্চিত্রের বাজার। বলা যায়, এখন রমরমা অবস্থায় আছে। আর্টিসান গেটওয়ে (সিনেমার বাজার গবেষণা করে) এক হিসাবে দেখিয়েছে, চীনের চলচ্চিত্রের বাজার গত বছরের চেয়ে ৬৪ ভাগ এগিয়েছে। এই হিসাব ২০১৯ সালের তুলনায় ৯ ভাগ এগোনো।