সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট’র সমাবেশ


রুদ্রবাংলা প্রকাশের সময় : জুলাই ১৪, ২০২৩, ০৮:৪৮ /
সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট’র সমাবেশ

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল, অত্যাবশ্যকীয় পরিষেবা বিল বাতিল; এবং শিক্ষা বাণিজ্য বন্ধ ও শিক্ষা  উপকরণের দাম কমানোর দাবিতে গত ১৩ জুলাই, বৃহস্পতিবার সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট এর সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ প্রাঙ্গন থেকে শুরু হওয়া একটি মিছিল ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে অপরাজেয় বাংলা’র পাদদেশে এসে সমাপ্ত হয় এবং মিছিল পরবর্তী সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মুক্তা বাড়ৈ। সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সুস্মিতা মরিয়ম এর সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি রাহয়ান উদ্দিন। সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক অনিক কুমার দাস, কেন্দ্রীয় প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক সুহাইল আহমেদ শুভ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

সমাবেশ থেকে বক্তারা বলেন, “স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকার একের পর এক কালাকানুনের মধ্য দিয়ে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব করে মানুষের গলা টিপে ধরার পাঁয়তারা অব্যাহত রেখেছে। আজকে লেখক মুশতাক, কার্টুনিস্ট কিশোরসহ এই আইনে গ্রেফতারকৃত আসংখ্য মানুষের উপর চরম নির্যাতন-নিপীড়নের চিত্র প্রমাণ করেছে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন জনগণের নিরাপত্তার খাতিরে প্রনয়ণ করা হয়নি বরং ভিন্নমত দমন করে সরকারের নিরাপত্তা নিশ্চিতের স্বার্থেই ব্যবহৃত হচ্ছে এই আইন। সর্বশেষ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী খাদিজাকে এই আইনে গ্রেফতার করে অন্যায়ভাবে কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে। এমনি করে ছাত্র-শিক্ষক-শিল্পীদের উপর যেমন দমন পীড়ন চলছে, তেমনি শ্রমিকদের স্বার্থকে পদদলিত করার উদ্দেশ্যে অত্যাবশকীয় পরিসেবা বিল আসতে চলেছে। অত্যাবশ্যক শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি, তার খাদ্য, বাসস্থান, চিকিৎসার সুব্যবস্থা থাকা। এইগুলির নিশ্চয়তা প্রদান ছাড়া অত্যাবশকীয় পরিসেবার কথা বলে শ্রমিকের ধর্মঘট করার গণতান্ত্রিক অধিকার হরণের পাঁয়তারা চলছে। একই সাথে লাগামহীন ঘোড়ার মতো বৃদ্ধি পেতে থাকা দ্রব্যমূল্যের প্রভাব পড়ছে শিক্ষার্থীদের উপর। শিক্ষা উপকরণের দাম ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। লাখো শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন আজকে হুমকির মুখে।”

সমাবেশ থেকে নেতৃবৃন্দ অনতিবিলম্বে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী খাদিজাসহ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গ্রেফতারকৃত সকলের নি:শর্ত মুক্তি ও এই আইন বাতিল, অত্যাবশকীয় পরিসেবা বিল প্রত্যাহার ও শিক্ষা উপকরণের দাম কমানোর দাবি জানিয়েছেন। একই সাথে সারাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিতে শিক্ষা বানিজ্যের সকল প্রক্রিয়া বন্ধ করে শিক্ষার সর্বজনীন ও গণতান্ত্রিক চরিত্র প্রতিষ্ঠার আহবান জানানো হয় সমাবেশ থেকে।